প্রায় তিন বছর তিন মাসের অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ভাগ্যে অবশেষে মুক্তির আলো দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জেলের অন্ধকারে দিন কাটানোর পর এবার বাড়ি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই একাধিক মামলায় জামিন পেলেও একটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ না হওয়ায় এতদিন জেলেই থাকতে হচ্ছিল তাঁকে। তবে অবশেষে সোমবার আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতে শেষ হল সেই সাক্ষ্য গ্রহণের প্রক্রিয়া।
সোমবার আদালতে শেষ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের রিলিজ অর্ডার দেন বিচারক। যদিও প্রথমে বিচারক ওই নির্দেশ স্থগিত রেখেছিলেন, পরে আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজ অর্ডার জারি করা হয়। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবারই প্রেসিডেন্সি জেল থেকে মুক্তি পেতে পারেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। একইসঙ্গে মুক্তি পাচ্ছেন এসএসসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যও। বর্তমানে অসুস্থ পার্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আদালতের নির্দেশ জেলে পৌঁছনোর পরই তাঁর মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এর আগেও পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজের মুক্তির জন্য আদালতে একাধিকবার আবেদন করেছিলেন। গত ২৮ অক্টোবর ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “জেল থেকে ছাড়া পেতে প্রয়োজনে নিজেই সওয়াল করতে চাই।” তাঁর বক্তব্যেই বোঝা গিয়েছিল, দীর্ঘ কারাবাসে তিনি কতটা ক্লান্ত। সেই সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্ট সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিলেও, তা অযথা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। অবশেষে সেই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ায় মুক্তির পথ খুলে গেল তাঁর সামনে।
গত ১৮ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, চার সপ্তাহের মধ্যে চার্জ গঠন করতে হবে এবং তার পরের দুই মাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দি সম্পূর্ণ করতে হবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া চলছিল ধীর গতিতে। শেষ সাক্ষীর সাক্ষ্য গত শুক্রবার অসম্পূর্ণ থাকলেও, সোমবার তা শেষ হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পূর্ণ হওয়ার পরই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Astrology: ২০২৬ সালে শনির কৃপায় ভাগ্য খুলবে তিন রাশির! অঢেল অর্থ, সম্মান ও নতুন জীবনের সম্ভাবনা
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুক্তির খবরে রাজনীতির মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের একসময়ের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা কি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন, নাকি নীরব থাকবেন— সেই প্রশ্ন এখন উঠছে নানা মহলে। তবে আপাতত রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী দীর্ঘদিনের বন্দিদশা শেষে বাড়ি ফিরছেন— এই খবরেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন তাঁর অনুগামীরা।





