করোনা? সেটা আবার কী? উত্তর কলকাতার বিখ্যাত পুজো শ্রীভূমি স্পোর্টিংয়ে রবিবার দ্বিতীয়াতে যা ভিড় দেখা গেল তাতে মনে হচ্ছে কলকাতায় করোনা আর নেই। সাংবাদিক অয়ন ঘোষালের এই ভিড়ের ভিডিও পোস্ট করেছেন। ‘দ্বিতীয়ার শ্রীভূমি । কোভিড ১৯ কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে 🙂RIP corona’। ক্যাপশনে এটাই লিখেছেন এই ব্যক্তি।
প্রতিবছর নিত্যনতুন থিমে দর্শকদের চমকে দেয় শ্রীভূমি। পুজোর পাঁচটা দিন এখানে প্রচুর ভিড় হয়। সেই সঙ্গে মায়ের গা ভর্তি সোনার গয়না এই পূজার মূল আকর্ষণ থাকে। তবে এই বছরের পরিস্থিতি অন্য যদিও দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়ায় পুজোতেও এই বছর মায়ের গায়ে ২৫ কেজি সোনার গয়না দেখা গিয়েছে। আশা করা হয়েছিল লোকজন হয়তো এবছর ঘরে থেকেই প্রতিমা দর্শন করবেন ভার্চুয়ালি কিন্তু গতকাল বিকালের ভিড় সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে। মুখে মাস্ক পরে অথবা মাস্ক ছাড়া সকলেই দলে দলে শ্রীভূমির প্যান্ডেল দেখতে ঢুকেছেন। পুলিশ সেই ভিড় সামাল দিতে ব্যর্থ।
অন্যদিকে কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনায় করোনার সংক্রমণ শীর্ষে উঠেছে। শেষ দু দিনে করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে এই দুই জেলাতে। কিন্তু বাঙালি যে আত্মঘাতী জাতি তা আরেকবার প্রমাণ হলো। ঠাকুর দেখতে উপচে রাস্তায় নামল হাজার হাজার মানুষ। আর তার ফলেই শিকেয় উঠল সামাজিক দূরত্ব।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে শ্রীভূমি স্পোর্টিং করোনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে প্যান্ডেল দেখতে ঢুকেছেন বাবা-মা।তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা দেখে নেটিজেনরা শিউরে উঠছেন। অনেকেই বলছেন এদের জন্যই যারা বাড়িতে রয়েছেন তাদের পর্যন্ত সংক্রমণ হয়ে যাবে। পুজো আবার আসবে সামনের বছর তখন ঠাকুর দেখা যাবে কিন্তু মানুষের এই কেয়ারলেস আচরণের জন্য হয়তো অনেকের কাছে এটাই শেষ পুজো হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে আজ তৃতীয়া থেকেই কলকাতার পুজো পরিক্রমা শুরু করার অনুমতি দিয়েছে সরকার। আজকের পর থেকে শ্রীভূমিতে যে কী অবস্থা হবে তা এখন থেকেই বোঝা যাচ্ছে কারণ মানুষকে সচেতন করেও ঘরে রাখা যায়নি। বস্তুত যেখানে রাজ্য সরকার ছাড়পত্র দিয়েছে উৎসবের জন্য সেখানে রাজ্যবাসীকে কি আটকানো যায়?






