PM Narendra Brigade Rally : “‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর সঙ্গে এবার ‘সবকা হিসাব’”— ব্রিগেডের মঞ্চে হুঙ্কার নরেন্দ্র মোদীর! ১৮ হাজার ৮৬০ কোটির সড়ক-রেল-বন্দর প্রকল্পের উদ্বোধন, আরজি কর-সন্দেশখালি প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী!

ভোটের আবহে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আবারও জমল রাজনৈতিক উত্তাপ। দীর্ঘ বিরতির পর এই ঐতিহাসিক ময়দান থেকেই শক্তি প্রদর্শনে নেমেছিলেন দেশের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। চারদিকে জনসমাগম, মঞ্চে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া— সব মিলিয়ে ব্রিগেডের সভা যেন নতুন করে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার মঞ্চ হয়ে উঠল। বক্তৃতার শুরুতেই বাংলার মানুষকে প্রণাম জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দূর চোখ যায় শুধু মানুষের ভিড়— এই দৃশ্যই নাকি বলে দিচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক আবহ কোন দিকে এগোচ্ছে।

রাজনৈতিক বক্তৃতার আগে সরকারি অনুষ্ঠানে বাংলার জন্য একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। মোট প্রায় ১৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা করা হয়। সড়ক, রেল ও বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। খড়গপুর-মৌরিগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, দুবরাজপুর বাইপাস এবং কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর উপর সেতু নির্মাণের মতো প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, এই উদ্যোগগুলির ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং পূর্ব ভারতের অর্থনীতিতেও নতুন গতি আসবে।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছয়টি রেলস্টেশনকে ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ হিসেবে উন্নত করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। কামাখ্যাগুড়ি, আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বীরভূম ও সিউড়ি— এই স্টেশনগুলিতে আধুনিক সুবিধা গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরের সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। খিদিরপুর ডকে কার্গো হ্যান্ডেলিং বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান। তাঁর দাবি, এই সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভারতের লজিস্টিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

উন্নয়ন প্রসঙ্গের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণও করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে দুর্নীতি ও নিয়োগ কেলেঙ্কারির কারণে যুবকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, একসময় শিল্প ও বাণিজ্যে এগিয়ে থাকা বাংলা এখন কর্মসংস্থানের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে সন্দেশখালি এবং আরজি কর হাসপাতালকে ঘিরে বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কেন্দ্রীয় প্রকল্প— যেমন সূর্যঘর বা আয়ুষ্মান প্রকল্প— রাজ্যে কার্যকর করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ “আমার চোখে শুধু…” ব্যাকস্টেজে ছিলেন শ্বেতা, সামনে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে রুবেল! মধুচন্দ্রিমার পরেই, টেলিপাড়ার দম্পতির ভিডিও ভাইরাল! অভিনেতাকে নেটিজেনদের ‘বউ পাগল’ তকমা! ঠিক কী ঘটেছে?

বক্তৃতার শেষ অংশে রাজনৈতিক বার্তাই সবচেয়ে জোরালো হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্র নিয়েই এগোবে কেন্দ্র। তবে তার পাশাপাশি ‘সবকা হিসাব’ও নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, বাংলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং অপরাধীদের জায়গা হবে জেলে। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যা পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি। ব্রিগেডের ময়দান থেকেই তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে— আর সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত বিজেপি।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles