অনেকদিন ধরেই বকেয়া ডিএ নিয়ে আন্দোলন চলছে। বকেয়া ডিএ মেটানোর কোনও তাগিদই নেই রাজ্য সরকারের মধ্যে। সেই কারণে এবার বকেয়া ডিএ আদায়ের জন্য বিধানসভা অভিযান করেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। কিন্তু বিধানসভার সামনে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। সেই সময়ই এক কর্মচারীকে ঘুষি মারেন এক পুলিশকর্মী, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। এর আগে টেট চাকরিপ্রার্থীকে কামড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল মহিলা কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। সেই রেশ না মিটতেই এবার ফের পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষি মারার অভিযোগ উঠল।
আজ, বুধবার ডিএ-র দাবী তুলে বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছিল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন। সেখান থেকে আন্দোলনকারীরা বিধানসভার ২ নম্বর গেটের সামনে জড়ো হন। কর্মচারীদের আসতে দেখেই আকাশ মাঘারিয়ার নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। তারা সরকারি কর্মচারীদের টেনে হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলেন। নারী-পুরুষ কোনও বাছবিচার করা হয়নি বলে অভিযোগ। তখনই এক পুলিশকর্মী এক সরকারি কর্মচারীর পেটে ঘুষি চালান বলে অভিযোগ।
কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি কোনওরকমে নিয়ন্ত্রণে আসে। সরকারি কর্মীদের সেখান থেকে সরায় পুলিশ। সরকারি কর্মচারী সংগঠনের এক নেতা বলেন, “আদালত ঘোষণা করেছে ডিএ আমাদের অধিকার। তার পরও আমাদের ডিএ দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। ডিএ চাইলে আমাদের সঙ্গে পশুর মতো ব্যবহার করছে পুলিশ। আমরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ চাই। আমাদের অধিকার আমরা আদায় করে ছাড়ব”।
বলে রাখি, ২০১৬ সালে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র দাবীতে কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ স্যাটে মামলা দায়ের করে। সেই আবেদনে বলা হয় যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ৩৪ শতাংশ হারে ডিএ পান। পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাঝে ডিএ বাড়ালেও কেন্দ্রের তুলনায় রাজ্যের কর্মীরা ৩১ শতাংশ কম পান। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে স্যাটের রায়ই বহাল রেখেছিল হাইকোর্ট। কিন্তু সেই রায়ের পরেও রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ডিএ পান নি। পাল্টা রিভিউ পিটিশন দায়ের করে রাজ্য সরকার।
তবে গত সেপ্টেম্বরে কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খায় রাজ্য। ডিএ মামলায় রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে দেয় বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন এবং বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্তর ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যের অর্থাভাবের যুক্তিও আদালতে খারিজ হয়ে যায়। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায় যে রাজ্যকে বকেয়া ডিএ মেটাতেই হবে। তবে এখনও ডিএ না মেলায় আন্দোলনে নেমেছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা।





