‘কিছু মন্ত্রী আর দালাল প্রকাশ্যে বলছে কারোর চাকরি যাবে না, কার নির্দেশে হচ্ছে এসব’? সদুত্তর পেতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন ইস্যু নিয়ে ফের সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আজ, বুধবার মামলার শুনানিতে তিনি যে মন্তব্য করলেন, তা বেশ বিস্ফোরক।

বেআইনিভাবে যারা চাকরি পেয়েছেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত শূন্যঅদ তৈরি করে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তাঁর কথায়, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মানবিক। তিনি চান না, কারও চাকরি যাক। আবার যোগ্যরাও যাতে বঞ্চিত না হন, সেই কারণেই প্রস্তাব করছি যে অতিরিক্ত কিছু শূন্যপদ তৈরি করার। তবে এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই মেনে নেওয়া হবে”।

কিন্তু এই প্রসঙ্গে আজ মামলার শুনানিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “কার নির্দেশে অযোগ্যদের জন্য শূন্যপদ তৈরি করতে চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন? কে করল এই বেনামী আবেদন? এটা কার মস্তিষ্কপ্রসূত? আমি তাঁর নাম জানতে চাই। এ ব্যাপারে সিবিআই আজ থেকেই তদন্ত করবে”।

এদিনের পর্যবেক্ষণে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, “আমি কিছু দালাল, যাঁরা নিজেদের মুখপাত্র বলছেন, আর কিছু মন্ত্রীর নাম জানি। যাঁরা প্রকাশ্যে বলছেন, কারও চাকরি যাবে না”। বিচারপতির কথায়, আদালত যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছে, তাহলে আদালত জানতে চায় যে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়ার কথা কার নির্দেশে বলা হচ্ছে?

এদিন এই নিয়ে ক্ষোভ জানানোর পর বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন যে আগামীকাল, বৃহস্পতিবার শিক্ষা সচিব মণীশ জৈনকে আদালতে আসতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী আসতে চাইলে তিনি স্বাগত। কোনও দালাল আসতে চাইলেও স্বাগত”।

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এদিনের এই পর্যবেক্ষণ রাজ্য-রাজনীতিতে যে বেশ প্রভাব ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এদিন বিচারপতি বারবার প্রশ্ন করেছেন যে এমন বেনামী আবেদন কে করছেন বা কার নির্দেশে করছেন? এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আগেই বলেছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী মানবিক। কারোর চাকরি যাক, তা তিনি চান না।

আর সেই ভিত্তিতেই আদালতকে এই প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। তবে এও বলা হয়েছিল যে আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই-ই হবে। কিন্তু তাও পুজোর আগে এই আবেদন করা হয় আদালতকে।

সেই আবেদনের বিষয়েই এদিন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “আপনারা আবেদনে লিখেছেন, পদচ্যুত শিক্ষকরা দুই থেকে চার বছর চাকরি করেছেন, এদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ কেউ দায়ের করেনি। কিন্তু অভিযোগ জানানোর কি কোনও ব্যবস্থা ছিল? তা হলে কোথায় অভিযোগ জানাবে? অযোগ্যদের চাকরি দেওয়ার জন্য শূন্যপদ তৈরি ব্যাপারে আদালতে যে আবেদনপত্র পেশ করা হয়েছিল, সেটাতেই শুধু আদালত সন্তুষ্ট নয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে যে ফাইল তৈরি হয়েছিল তা আদালতে পেশ করতে হবে। অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করে অযোগ্যদের চাকরি পেতে দেব না”।

RELATED Articles