শিক্ষার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এসএফআই (SFI) সংগঠনের এক নেতার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এক ছাত্রী। এই ঘটনাটি কেবলমাত্র একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অভিযুক্তের আচরণ নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত এসএফআই নেতা এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং জোরপূর্বক শারীরিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসের মধ্যেই ওই নেতা ছাত্রীটির হাত ধরে টানাটানি করেন, বারবার “ভালবাসি” বলে অস্বস্তিকর মন্তব্য করেন এবং এমনকি গালে জোর করে চুমু দেওয়ারও চেষ্টা করেন। শুধু তাই নয়, ছাত্রীটির সঙ্গী বন্ধুকেও শারীরিকভাবে চেপে ধরেন এবং তার প্রতি অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন।
এই ঘটনার পর আরও জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্যাম্পাসের ভেতরে এবং বাইরেও অন্যান্য ছাত্রীর সঙ্গে এমন অস্বস্তিকর আচরণ করেছেন। বিভিন্ন নারীর প্রতি তার মন্তব্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত অপমানজনক বলে দাবি করেছেন অনেকেই। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতার গর্ব প্রকাশ করতেন, যা একাধিক মহিলাকে অপমানিত করেছে। তার আচরণে স্পষ্ট যে, সে এমন কাজ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি।
এই ঘটনার জেরে ক্যাম্পাসজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। শিক্ষার্থীরা দোষীর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং ক্যাম্পাসে নারীর সুরক্ষার প্রশ্ন তুলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা কেবলমাত্র ব্যক্তিগত নির্যাতন নয়, বরং শিক্ষার পরিবেশকেই কলুষিত করে তুলছে। দোষী ব্যক্তির শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে আরও এমন ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দিল্লি দখলের দোরগোড়ায় বিজেপি! AAP-র শীর্ষ নেতারা বিপাকে—শেষ মুহূর্তে পাল্টাবে কি ফল?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন সংগঠন ইতিমধ্যেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। অভিযোগকারীরা দ্রুত এবং সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষাঙ্গনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব, এবং এই ঘটনার মাধ্যমে সে দায়িত্বের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন কিভাবে এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেয়।






