Yubabharati case : মেসি আনার আড়ালে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির ছক? যুবভারতী মামলায় ‘প্রভাবশালী’ শতদ্রু দত্তের খারিজ আদালতে!

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ঘিরে যে মামলা ধীরে ধীরে জটিল আকার নিচ্ছে, বুধবার আলিপুর আদালতে তারই আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সামনে এল। বিশ্ববিখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে হওয়া এই মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসা শতদ্রু দত্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল আদালত। বাইরে থেকে এটি একটি ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার বিতর্ক মনে হলেও, আদালতের ভিতরে সওয়াল-জবাবে উঠে এসেছে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক ত্রুটি এবং প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ, যা কৌতূহল বাড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।

এদিন সরকারি পক্ষ থেকে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, যুবভারতীতে মেসিকে আনার নামে প্রায় ২৩ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি জানান, তদন্ত এখনও একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক টিকিট কেটেছিলেন এবং টিকিট বিক্রি থেকেই প্রায় ১৯ কোটি টাকা আয় হয়। অথচ অনুষ্ঠানের দিন চরম বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে আসে। সরকারি আইনজীবীর দাবি, সেই অশান্তিতে প্রায় ২ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

জামিনের বিরোধিতা করতে গিয়ে সরকারি আইনজীবী আরও বলেন, শতদ্রু দত্ত অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। জামিন পেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন—এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। উল্লেখযোগ্যভাবে, তাঁকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়, যখন তিনি এক বিখ্যাত ফুটবলারের সঙ্গে বিমানে উঠতে যাচ্ছিলেন। সরকারি পক্ষের বক্তব্য, এত বড় ঘটনা ঘটার পর মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা তদন্তের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলছে। আদালতে জানানো হয়, ১২ ডিসেম্বর সরকারি চুক্তি হলেও খাবার ও পানীয় সংক্রান্ত চুক্তি নভেম্বরেই হয়ে গিয়েছিল, যা সরকারি অনুমোদনের আগেই নেওয়া সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেয়। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত ২১ জনের বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, শতদ্রু দত্তের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী সৌমজিত রাহা। তিনি দাবি করেন, এটি একটি সম্পূর্ণ পেশাদার সংস্থার আয়োজন করা অনুষ্ঠান, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দর্শকদের সামনে বিশ্ববিখ্যাত ফুটবলারকে তুলে ধরা। প্রশাসনের সব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তিনি আদালতে জানান, ৭ নভেম্বর বিধাননগর থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ পাওয়া গিয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে এবং প্রশাসন কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানানো হয়েছে। আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও নিয়মভঙ্গ করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir : নিরাপত্তারক্ষী নিগ্রহে নাম জড়াল বিধায়কের ছেলে! আটক ঘিরে হুমায়ুন কবীর বনাম পুলিশের মুখোমুখি লড়াই!

আইনজীবীর যুক্তি ছিল, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শতদ্রু দত্তের সংস্থা একই ধরনের আন্তর্জাতিক ইভেন্ট সফলভাবে আয়োজন করেছে। কলকাতার পর মুম্বই, দিল্লি ও হায়দরাবাদে অনুষ্ঠান সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে বলেই তিনি “৩-০ গোলে এগিয়ে” থাকার কথা বলেন। মেসির জন্য Z ক্যাটাগরির নিরাপত্তা ছিল এবং গোয়েন্দা দফতরের তদন্তেও অশান্তির সরাসরি প্রমাণ মেলেনি বলেও দাবি করা হয়। পাশাপাশি, ২২ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ফ্রিজ করা হয়েছে এবং শতদ্রুর একাধিক শারীরিক জটিলতার কথাও আদালতে তোলা হয়। যদিও সব যুক্তি শোনার পর তদন্তের স্বার্থে আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় এবং শতদ্রু দত্তকে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles