নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য জুড়ে চলছে চাঞ্চল্য। একের পর এক নাম প্রকাশ্যে আসছে, তবুও সাধারণ মানুষের মনে রয়েছে হাজারো প্রশ্ন। সত্যিই কি পুরো ছবি সামনে এসেছে? নাকি এখনও অনেক কিছু আড়ালে রয়ে গেছে? সম্প্রতি প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা নতুন করে আলোড়ন তুলেছে রাজ্য রাজনীতিতে।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, স্কুল সার্ভিস কমিশন যে অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে তা মোটেও সম্পূর্ণ নয়। তাঁর মতে, ওই তালিকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ নাম বাদ পড়েছে। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়। অন্তত ছ’হাজারেরও বেশি প্রার্থী দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছেন, যাদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।” তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এসএসসি প্রকৃত তথ্য গোপন করছে?
প্রাক্তন বিচারপতি আরও অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানেনি এসএসসি। তাঁর কথায়, কেবলমাত্র কিছু নাম প্রকাশ করে আসল তথ্য আড়াল করা হচ্ছে। ফলে কমিশনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রাপ্য। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিচারপতি থাকাকালীন তিনিই নিয়োগ মামলার শুনানির সময়ে একাধিক দুর্নীতি সামনে এনেছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ঘিরেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবারও তিনি স্পষ্ট জানালেন, এই তালিকার মাধ্যমে প্রকৃত দুর্নীতিগ্রস্তদের নাম প্রকাশ পায়নি।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, নিয়োগ দুর্নীতির বিভিন্ন ধাপ ছিল। কেউ পরীক্ষায় বসেননি, তবুও তাঁদের নাম প্যানেলে ঢুকেছিল। কেউ আবার শুধু রোল নম্বর লিখে খাতা জমা দিয়েও চাকরি পেয়েছিলেন। ওএমআর শিটে ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বহু প্রার্থীর। এমনকি প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অনেককে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এসএসসি যতজনকে সুপারিশ করেছিল, তার থেকেও বেশি জনকে চাকরির চিঠি দিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।
আরও পড়ুনঃSealdah AC Train : আগামী সপ্তাহেই বনগাঁ ও কৃষ্ণনগর রুটে আসছে এসি লোকাল, কোন লাইনে কত ভাড়া?
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় মনে করেন, আসল দোষীদের নাম এখনও আড়ালে। তিনি বলেন, “এদের অনেকের নাম তো এখনও প্রকাশ পায়নি। এরাই টাকা দিয়ে চাকরি কিনেছেন। তালিকায় কারা কোন স্কুলে কাজ করছিলেন সেটাও স্পষ্ট নয়।” তাঁর দাবি, এখনও সময় আছে। তাই স্কুল সার্ভিস কমিশনের উচিত সমস্ত দাগি প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে পুরো বিষয়টি স্বচ্ছ করা। না হলে নিয়োগ দুর্নীতি ঘিরে মানুষের মনে সন্দেহ থেকেই যাবে।





