কলকাতার বুক দিয়ে ঐতিহ্যবাহী ট্রামের ছোটাছুটি বহু যুগ আগে থেকেই। এবার সেই ট্রামেই নতুন সংযোজন গ্রন্থাগার। এতদিন শুধু ট্রাম ছুটত, এবার সেই ট্রামে বসেই বই দেখার ও বই পড়ার সুযোগ পাবে যাত্রীরা। মহানগরে শুরু হল ট্রাম লাইব্রেরী। একটি ট্রামে চলমান গ্রন্থাগার পরিষেবা চালু করল রাজ্য পরিবহন নিগম।
ধীরগতি ট্রামে সফর করার সময় বিরক্তি বোধ করলে এবার হাতে পাওয়া যাবে বই। ট্রামের ভিতরেই রয়েছে নানান বইয়ের সম্ভার। গল্প, উপন্যাস, ম্যাগাজিনের পাশাপাশি মিলবে আইএএস, আইপিএস, ডব্লুবিসিএস, জিআরই, জিম্যাট- এসব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার দামী দামী বইও। ট্রামের ভিতর অনলাইনে বই পড়ার সুযোগও পাবেন যাত্রীরা। ট্রামেই রয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই।
১৮৭৩ সালে কলকাতায় প্রথম ঘোড়ায় টানা ট্রাম দিয়ে যাত্রাকাল শুরু হয় ট্রামের। ১৯০২ সালে কলকাতার খিদিরপুরেই শুরু হয়েছিল ইলেকট্রিক ট্রামের সূচনা। নোনাপুকুর ট্রামডিপোয় বসানো হয় জেনারেটর যা ট্রামের ইতিহাসে দেশের মধ্যে প্রথম।
আজ বৃহস্পতিবার থেকেই কলকাতার বুকে ছুটবে এই ট্রাম। ছুঁয়ে যাবে বইপাড়া দিয়ে। শ্যামবাজার থেকে কলেজ স্ট্রীট হয়ে এসপ্ল্যানেডগামী ট্রাম রাস্তায় কম করে ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং আছে এশিয়ার বিখ্যাত বইপাড়া কলেজ স্ট্রীট। ফলে এই রুটে ছাত্রছাত্রী ও বইপ্রেমীদের আনাগোনা নিত্য লেগেই থাকে। এই কথা মাথায় রেখেই বইপ্রেমীদের জন্য এক অভিনব সুযোগ করে দিল রাজ্য পরিবহন নিগম। আপাতত, চারটি রুটে শুরু হয়েছে এই ট্রাম।
রাজ্য পরিবহন নিগম সূত্রের খবর, আমফানের দুর্যোগ কাটিয়ে এদিনই যাত্রী পরিষেবা শুরু হচ্ছে শ্যাম্বাজার-এসপ্ল্যানেড রুটে। পরিবহন নিগমের এক আধিকারিকের কথায়, “ট্রামযাত্রায় মানুষকে আরও উৎসাহী করতে ও বইপাড়ার সঙ্গে ট্রামের যোগাযোগের দিকটি তুলে ধরতেই তাদের এই উদ্যোগ’। ট্রামে চড়ার সময় বই পড়ার সুযোগ যাত্রীরা হাতছাড়া করবেন না বলেই আশা রাখছেন তারা।
উল্লেখ্য, ট্রাম গ্রন্থাগার উদ্বোধনের প্রথম সপ্তাহে ট্রামের যাত্রীরা টিকিট কেনার পাশাপাশি পাবেন একটি পেনও। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগকে আরও বাড়াতে ওই ট্রামে বিভিন্ন বই ও পত্রপত্রিকার প্রকাশ অনুষ্ঠান করার কথাও ভাবছেন কর্তৃপক্ষ। এমনকি, নভেম্বর মাসে ট্রাম লিফট ফেস্টিভ্যালের পরিকল্পনাও করছে ট্রাম কোম্পানি।





