অবশেষে অনেক জল্পনা কল্পনার পর ইউজিসি-এর গাইডলাইন মেনেই রাজ্যে শুরু হল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল পরীক্ষা। ইউজিসির নির্দেশ অনুযায়ী, এই করোনাকালে বাড়িতে বসেই ওপেন বুক পরীক্ষা দিলেন সব পরীক্ষার্থীরা। তবে যাদের বাড়িতে ইন্টারনেট পরিষেবা নেই, তারা কেউ কেউ কলেজে গিয়েই পরীক্ষা দেন।
‘নিউ নরম্যাল’ এই পৃথিবীতে পশ্চিমবঙ্গের পরীক্ষা চিত্রটাও যেন কীভাবে মুহূর্তে পাল্টে গেল। পরীক্ষার হল, নেই, নেই ঘরভর্তি কিছু চিন্তিত মুখ। পরীক্ষার্থী আছে, পরীক্ষার প্রস্তুতিও আছে কিন্তু পাশে খোলা রয়েছে বই, মোবাইল ও অন্যান্য দরকারি নোটস। নেই পরীক্ষকদের নজরদারিও। কলকাতার আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস কলেজে দেখা গেল খানিকটা এমনই চিত্র। তবে রাজ্যের অনেক কলেজেই চোখে পড়েছে এই একই দৃশ্য। যদিও সিংহভাগ পরীক্ষার্থীই বাড়িতে বসেই পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে তাদের ঘরই হয়ে উঠেছে তাদের রণক্ষেত্র।
এই বিষয়ে এক ছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে, “কোনওদিন ভাবিনি এভাবেও পরীক্ষা দেব। কিন্তু কলেজ ও ইউজিসির পক্ষ থেকে যেরকম নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা মেনেই পরীক্ষা দিয়েছি।“ পরীক্ষার সময় তার মাকে তার পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। আবার বীরভূমের লাভপুরে শম্ভুনাথ কলেজের প্রায় ৩০০ জোন পরীক্ষার্থী স্থানীয় মাদ্রাসার মাঠে বসে পরীক্ষা দিয়েছেন। পরীক্ষা শেষে তারা কলেজেই খাতা জমা দেন।
তবে এভাবে পরীক্ষা দিতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছেন অনেকেই। পরীক্ষার সময়সীমা ছিল ২ ঘণ্টা এবং প্রশ্নপত্র ডাউনলোড ও উত্তরপত্র আপলোডের জন্য দেওয়া হয় আরও তিরিশ মিনিট। কিন্তু নানান কারণে পরীক্ষার্থীদের অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র আপলোড করতে দু-এক মিনিট দেরী হয়ে যায় কিন্তু কলেজের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে ওইটুকু ছাড় তারা দিয়েছেন।
এরকম ওপেন বুক পরীক্ষার নিয়ম বিদেশে বিশেষভাবে প্রচলিত, করোনা পরিস্থিতিতে লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স এই ধারাতেই পরীক্ষা নিয়েছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রশ্নপত্রের ধরণ আলাদা হয়। এমনভাবে প্রশ্ন সাজানো হয় যে বই দেখলেও মিলবে না উত্তর। এবার এই একই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পরীক্ষার্থীদের বৈতরণী পার হয় কী না, সেটাই এখন দেখার।





