কলকাতার রাজনীতির ধূসর পর্দার সঙ্গে ভোটের আগে হঠাৎ সংঘটিত ঘটনা নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। শুক্রবার সকালে শহরের একাধিক জায়গায় হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপস্থিতি সল্টলেক থেকে শুরু করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে চোখে পড়ে। যদিও এই ধরনের অভিযান পুরনো ঘটনা, তবে সময় এবং টার্গেটিং প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক মহলে।
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হানার মধ্যে ছিল সল্টলেক সেক্টর ওয়ানের সুজিত বসুর দফতর। শুধু তাই নয়, তাঁর রেস্তরাঁ এবং গোলাহাটার ধাবাতেও হানা দেয় ইডি। এ প্রসঙ্গে মুখ খোলেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁর বক্তব্য, ভোটের আগে এই ধরনের হানা ‘রাজনৈতিক ভাবে বিরোধী নেতাকে আক্রমণের চেষ্টা’। তিনি বলেন, “এরা প্রত্যেকবার ভোট এলেই এমন করে। বাড়ি, অফিস, রেস্তরাঁ—সব জায়গায় যায়। কিন্তু কিছু তো পায় না।”
এদিন ইডির তল্লাশির মধ্যে ছিলেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্তের বাড়ি, যিনি সুজিতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সুজিত স্পষ্ট করে জানান, “ওদের লক্ষ্য শুধু চাপ সৃষ্টি করা। আমার বা নিতাইয়ের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পাওয়া যাবে না। মানুষের মনেই আমার সার্টিফিকেট।” তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে এই হানা আসলে বিরোধী নেতাকে সংকীর্ণ পরিস্থিতিতে ফেলবার প্রচেষ্টা।
এদিন সকাল থেকেই কলকাতার অন্তত ১০টি জায়গায় হানা দেয় ইডি। শুধুমাত্র পুর নিয়োগ দুর্নীতি নয়, ব্যাঙ্ক প্রতারণা সংক্রান্ত একটি মামলাতেও এই তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি চলে ঠনঠনিয়া, শরৎ বোস রোড, নিউ আলিপুর, বেলেঘাটা ও নাগেরবাজারে। এগুলোতে কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে নথি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুনঃ ED Raid Sujit Bose’s Office: দুর্গাপুজোর পরে সরগরম রাজ্য! সুজিত বসুর অফিসে হানা ইডির!
সুজিতের বিরুদ্ধে ইডির আগের হানার কথাও স্মরণ করলেন তিনি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লেকটাউন ও অন্যান্য ঠিকানায় ১৪ ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে কিছু নথি এবং মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে তিনি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, “যদি কেউ আমার কাছ থেকে কাজের জন্য এক টাকা পায়, আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেব।” এবারের হানা নিয়েও তিনি স্পষ্ট করে জানান, “এটা ভোটের আগে প্রতিহিংসার রাজনীতি।”





