Suprem court : ‘ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করলে মহিলাদের পেশাগত নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে’ — শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে জানাল সুপ্রিম কোর্ট! ভবিষ্যতে কি এই সিদ্ধান্ত কর্মক্ষেত্রে সমতার পথে বাধা হতে পারে?

মাসের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন মহিলাদের জন্য শারীরিকভাবে অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। কাজের চাপ, পড়াশোনার দায়িত্ব—সব মিলিয়ে সেই সময়টা সামলানো অনেকের কাছেই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই বহুদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে, কর্মক্ষেত্র কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কি মহিলাদের জন্য ঋতুকালীন ছুটির বিশেষ ব্যবস্থা থাকা উচিত? এই বিতর্ক নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে হওয়া এক মামলাকে ঘিরে।

এই প্রসঙ্গেই সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আবেদনকারী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী দাবি করেছিলেন, ছাত্রী এবং কর্মরতা মহিলাদের জন্য সারা দেশে ঋতুস্রাবকালীন ছুটি নিয়ে একটি অভিন্ন নিয়ম বা আইন চালু করা হোক। তাঁর বক্তব্য ছিল, ঋতুচক্রের সময় অনেক মহিলা শারীরিক সমস্যায় ভোগেন, তাই সেই সময় তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট ছুটির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বিষয়টি সামনে আসতেই আদালতে শুরু হয় গুরুত্বপূর্ণ শুনানি।

এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। আদালত জানায়, ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করে আইনি রূপ দিলে তা ভবিষ্যতে নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। বিচারপতিদের মতে, যদি এই ধরনের আইন তৈরি হয়, তাহলে অনেক সংস্থা মহিলাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে দ্বিধায় পড়তে পারে। এমনকি কর্মক্ষেত্রে তাঁদের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও অযথা প্রশ্ন তোলা হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে মহিলাদের কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আদালত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। বিচারপতিদের মতে, ঋতুস্রাবকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার দাবি অনিচ্ছাকৃতভাবে মহিলাদের ‘অক্ষম’ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। এর ফলে সমাজে প্রচলিত লিঙ্গবৈষম্যের ধারণা আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও আবেদনকারীর আইনজীবী এম. আর. শামশাদ কেরলের কিছু স্কুল ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিয়ে জানান, কিছু জায়গায় ইতিমধ্যেই এই ধরনের ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃBJP: ভোট ঘোষণার আগেই বড় প্রস্তুতি বিজেপির, ১৫০ আসনে প্রার্থী ঠিক? পুরনো মুখই বেশি নাকি থাকছে নতুন চমক?

তবে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, কোনও প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় এই সুবিধা দিলে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু গোটা দেশে বাধ্যতামূলক আইন তৈরি করা আদালতের কাজ নয়। তাই এই জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে আদালত জানিয়েছে, বিষয়টি মূলত নীতি নির্ধারণের প্রশ্ন। মহিলাদের স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা হবে, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের হাতেই রয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles