পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট এখনও ঘোষণা হয়নি, কিন্তু রাজনৈতিক অন্দরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই। রাজ্যের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী খোঁজার কাজ শুরু করে দিয়েছে। ভোটের আগে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং জয়ের সম্ভাবনা বেশি এমন আসনগুলিতে কৌশল তৈরি করার দিকেই এখন জোর দিচ্ছে দলগুলি। বিশেষ করে বিজেপি (BJP) শিবিরে প্রার্থী বাছাই নিয়ে তৎপরতা আরও বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি দিল্লিতে টানা দু’দিন বৈঠকে বসেন বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। মূলত প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়েই এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর। দিল্লির এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনাও বাড়তে শুরু করেছে।
সূত্রের দাবি, প্রায় ১৫০টি বিধানসভা আসনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করে ফেলেছে বিজেপি। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নাম ঘোষণা করা হয়নি। দলীয় মহলের ইঙ্গিত, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর প্রথম দফাতেই এই প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হতে পারে। এতে করে নির্বাচনী প্রচার দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে পদ্মফুল শিবিরের।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বর্তমান বিজেপি বিধায়কদের বড় অংশই এবারও টিকিট পেতে পারেন। আনুমানিক ৮৭ থেকে ৮৮ শতাংশ বর্তমান বিধায়ককে আবারও প্রার্থী করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে কয়েকজন বিধায়ক বয়স ও শারীরিক সমস্যার কারণে আর প্রার্থী হতে না চাওয়ার কথা দলকে জানিয়েছেন। সেই সংখ্যা মোটামুটি ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে হতে পারে বলেই জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি কিছু আসনে নতুন মুখকেও সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ১৬৯০ কোটি টাকার ধাক্কা! বলিউডের বাদশার ইমেজে বড় ধস! হঠাৎ কেন কমল শাহরুখ খানের সম্পত্তি? কিং খানের অর্থসাম্রাজ্যে ফাটল ধরাচ্ছে কে?
তবে কলকাতা এবং তার আশপাশের এলাকার প্রার্থী নির্বাচন এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। এই অঞ্চলে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি এলাকার পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বদের প্রার্থী করার ভাবনাও রয়েছে বিজেপির অন্দরে। এদিকে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, আগামী ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ সহ তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। ভোট এক থেকে তিন দফায় হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে, আর ফলাফল প্রকাশ হতে পারে এপ্রিল মাসেই।





