“ধ্বং*সস্তূপের নীচে এখনও শোনা যাচ্ছে আর্তনাদ!” তারাতলার গুদাম ধ’সে ঠিক কতজন শ্রমিক আটকে? উদ্ধারকারীদের মরিয়া অভিযানের মাঝেই বাড়ছে উদ্বেগ!

শহরের এক নির্মীয়মাণ বহুতল গুদাম ভেঙে পড়ার পর এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে বেশ কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঠিক কতজন ভিতরে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকারীরা জানাচ্ছেন, ধসে পড়া লোহা ও কংক্রিটের স্তূপের নীচ থেকে এখনও মানুষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে দমকল, এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা একযোগে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।

উদ্ধারকাজ দ্রুত করতে একাধিক ক্রেন এবং ভারী যন্ত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বড় হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে ভেঙে পড়া অংশকে স্থির রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে নতুন করে আর কোনও অংশ ধসে না পড়ে। প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে থাকা এই গুদামের ভিতরে কোনও আলাদা ঘর বা দেওয়াল না থাকায় গোটা কাঠামোটিই একসঙ্গে ভেঙে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

প্রথমে মাটি কেটে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করা হলেও তাতে সাফল্য মেলেনি। পরে হাইড্রোলিক মই ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চালানো হয়। কংক্রিটের মোটা স্তর এবং লোহার বিমের কারণে উদ্ধারকারীদের যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে কিছু জায়গায় ছিদ্র করে ভিতরে বাতাস পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে আটকে থাকা ব্যক্তিদের অবস্থানও বোঝা যায়।

এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের গুরুতর আহত অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের খোঁজে স্নিফার ডগ ব্যবহার করছে পুলিশ। রাতেও উদ্ধারকাজ চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সেই কারণে বড় জেনারেটর ও অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একাধিক অ্যাম্বুল্যান্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন, দ্রুত শুনানির আর্জিতে মিলল না সাড়া

পরে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদামে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দেড় বছর ধরে সেখানে কাজ চলছিল। বুধবার দুপুরে কয়েক তলা উঁচু ছাদ আচমকা ভেঙে পড়ে। শ্রমিকরা কাজ করছিলেন সেই সময়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি, যা একটি চা সংস্থাকে লিজে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থলে রাজ্যের মন্ত্রী, কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক এবং পুরসভার কর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন।

আরও অন্যান্য খবর