বিশ্ব জুড়ে যখন তথ্য প্রযুক্তির বিস্তার, তখন সেই জগতেরই এক পরিচিত মুখের বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ। বিত্ত, ক্ষমতা ও খ্যাতির মোহে ঢাকা জীবনের আড়ালে নাকি লুকিয়ে ছিল অন্ধকার এক অধ্যায়। সম্প্রতি ভারতীয় প্রযুক্তি উদ্যোগপতি প্রসন্ন শঙ্করের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা, ধর্ষণ, শিশু অপহরণ-সহ একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তাঁর স্ত্রী দিব্যা শশীধর।
‘দ্য সান ফ্রান্সিসকো স্ট্যান্ডার্ড’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিব্যা জানিয়েছেন, তাঁর উপর স্বামীর অত্যাচার এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, বাধ্য হয়েই কেরিয়ার বিসর্জন দিতে হয় তাঁকে। প্রসন্নের বিকৃত যৌন চাহিদা মেটাতে একাধিকবার অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে। দিনের পর দিন অত্যাচারের শিকার হয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
ঘটনার সূত্রপাত তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা থেকে। প্রথমে স্ত্রীর বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন প্রসন্ন। তবে এরপরই পাল্টা বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে সামনে আসেন দিব্যা। তাঁর দাবি, যৌনকর্মীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন প্রসন্ন। কখনও যৌনকর্মীদের বাড়িতে ডেকে আনতেন, আবার কখনও দিব্যাকেও জোর করে নিজের বন্ধুদের সঙ্গে সঙ্গমে বাধ্য করতেন। দিব্যার অভিযোগ, তাঁর মতের বিরুদ্ধে প্রসন্ন তাঁকে যন্ত্রণাদায়ক সঙ্গমে বাধ্য করতেন বারবার।
উল্লেখ্য, প্রসন্ন শঙ্কর সিঙ্গাপুরের জনপ্রিয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘Rippling’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলার। বর্তমানে প্রসন্ন ও দিব্যার মধ্যে সন্তান হেফাজত ও বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলা চলছে। এই আইনি লড়াই চলাকালীন প্রসন্ন দিব্যার বিরুদ্ধে সন্তানের অপহরণের অভিযোগ তোলেন। তবে দিব্যার দাবি, সব অভিযোগই ভুয়ো। বরং তিনি নিজেই প্রসন্নের শারীরিক, মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এদিকে প্রসন্ন পাল্টা দাবি করেছেন, কোনও এফআইআর ছাড়াই চেন্নাই পুলিশ তাঁকে নজরদারি করছে। তাঁর মোবাইল লোকেশন, গাড়ি, ইউপিআই লেনদেন, আইপি অ্যাড্রেস সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ। অন্যদিকে দিব্যার অভিযোগ, প্রসন্ন সব সময় যৌনতা নিয়ে নির্যাতন করতেন। যৌনকর্মীদের সঙ্গে মাখামাখি ছিল তাঁর নেশা। স্ত্রী হিসেবে এসব সহ্য করতে না পেরে, নিজের আত্মসম্মান রক্ষার জন্যই আইনি পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ Weather update : তীব্র গরমের মাঝে নিম্নচাপের চমক, রাজ্যের কোন জেলায় ঝড়-বৃষ্টি তাণ্ডব?
বলাবাহুল্য, প্রসন্ন শঙ্কর ও দিব্যা শশীধরের এই বিতর্কিত লড়াই এখন প্রযুক্তি জগত ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। তদন্তের পর সত্যিই কার কথা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলের নজর।





