করোনায় প্রিয় মানুষদের হারানোর পর এবার কি তাদের সামগ্রীর জন্যও পরিবারকে হয়রান হতে হবে। কিছুদিন আগে মেডিকেল কলেজে করোনা হাসপাতালের বেডের জন্য দালালদের তোলাবাজির খবর আসে। এবার আবার নতুন অভিযোগ হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে। ওই হাসপাতালে মৃত এক তরুণীর বাবার বক্তব্য, মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর একটি দামি মোবাইল ফোন নিখোঁজ। হয়রান হয়ে মঙ্গলবার পুলিশের দ্বারস্থ হন এক অসহায় পিতা।
গত ১৮ই মে মেডিক্যাল কলেজে করোনার গ্রাসে প্রাণ হারান হাওড়ার শ্যামপুরের এক তরুণী। কিন্তু মৃত্যুর পরই তাঁর ২টি মোবাইল ফোন নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর মাসখানেক ছোটাছুটি করে মঙ্গলবার ২টি ফোনের একটি ফেরত পান তাঁর পিতা। এখনও আরেকটি দামি ফোন নিখোঁজই রয়েছে।
করোনা হাসপাতালগুলিতে করোনা ওয়ার্ডের ভিতর রোগীর পরিবারকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ফলে প্রিয় মানুষের সাথে যোগাযোগের একটাই মাধ্যম থাকে, তা হল ফোন। কিন্তু কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে রোগীর মৃত্যুর পর তার ফোনটাও চুরি হয়ে যাচ্ছে, আর তার জেরে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে পরিবারের বাকিদের।
তরুণীর বাবার বক্তব্য, ‘মেয়েকে তো আগেই হারিয়েছি। কিন্তু মানুষ আজকাল মৃতের জিনিসও ছাড়তে চায় না। আজ এই ঘটনার পর মনুষ্যত্বের ওপর থেকে বিশ্বাসটাই উঠে যাচ্ছে। কী ভাবে কেউ মৃত ব্যক্তির সামগ্রী চুরি করতে পারে সেটাই অদ্ভুত বিষয়? এরা কি আদৌ মানুষ?’
তবে শুধু যে মোবাইল ফোন নিখোঁজ তা নয়, করোনা ওয়ার্ড থেকে মৃত ব্যক্তিদের অন্যান্য দামি সামগ্রীও চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়ের মোবাইল ফোন ফেরত চেয়ে আজ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।





