কলকাতার কালীপুজোর সময় শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চলে উৎসবের মেজাজ। প্রতিমার সামনে প্রদীপ জ্বলে, ঘর-ঘর থেকে ভক্তরা আসে দেবীকে আরাধনা করতে। প্রত্যেক বছর ট্যাংরার রাস্তায় লোকেদের নজর এক অনন্য কালীপুজোতে, যেখানে মা কালীর ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় চাউমিন । শুনে অনেকে আশ্চর্য হলেও, এলাকার ভক্তরা মনে করেন, “নিজে যা ভালোবাসি, তা মায়ের কাছে দেওয়া ঠিক”। এমন ভক্তির ভাবনা মন্দিরের আচার-অনুষ্ঠানকে আলাদা রঙে রাঙিয়ে তোলে।
মন্দিরটি পরিচিত ‘চীনা কালীমন্দির’ (Chinese Kali Temple) নামে। শহরে চীনা সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ১৭৭৮ সাল থেকে। মূলত গুয়ানদং প্রদেশের হাক্কা সম্প্রদায়ের মানুষরা ট্যাংরা ও টেরিটি বাজারে বসতি গড়ে। এলাকার প্রাচীন গল্প অনুযায়ী, মন্দিরের জন্ম হয়েছিল এক পরিবারে, যখন তাদের ছোট ছেলের রোগ ঠিক করতে কোনও ডাক্তার-চিকিৎসা কাজে আসে না। শেষ পর্যন্ত ছেলেকে মা কালীর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ছেলেটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পর বিশ্বাসের সঙ্গে তৈরি হয় মায়ের মন্দির।
ভক্তদের মতে, মন্দিরে কালীপুজোর আচার ধাপে ধাপে পালন করা হয়। এখানে ধর্ম-বর্ণের বিভেদ নেই, স্থানীয় বাঙালি ও বিহারি সম্প্রদায়ও নিয়মিত পুজোয় অংশ নেন এবং আর্থিক সাহায্য করেন। মন্দিরের পুরোহিতরা দেবীর আরাধনা নিজের হাতে করেন, প্রতিমা সাজিয়ে রাখেন, এবং ভক্তদের কাছে পুজো শুরু হওয়া মানে এক ধরণের আত্মিক মিলনের অনুভূতি। বহু ভক্ত দাবি করেন, এখানে পুজোর সময় মায়ের আশীর্বাদ স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
এ বছর কালীপুজো আসার আগেই ভক্তরা প্রস্তুতি শুরু করেছেন । স্থানীয়দের কথায়, তরুণ প্রজন্ম মন্দিরের দায়িত্ব গ্রহণ করছে, পুরোনো প্রজন্মের স্মৃতিগুলো ধরে রেখে। প্রত্যেক বছরই মন্দিরের ভেতরে এবং আশেপাশে আলোয় সেজে ওঠে দেবীর রূপ, যা ভক্তদের মনে আনন্দ ও ভক্তির এক অনন্য অনুভূতি জাগায়।
আরও পড়ুনঃ Ra*pe: বেসরকারি কলেজ ঘিরে চাঞ্চল্য! শৌচাগারে ছাত্রীকে ধর্ষ*ণের অভিযোগ!
চীনা কালীবাড়ি কেবল একটি স্থাপনা নয়, এখানে বৈদিক মতে পূজো হয় কোনরকম বলি দেওয়া হয় না, এটি ধর্মীয় এক মিলনস্থল, যেখানে ভারতীয় ও চীনা সংস্কৃতির ছোঁয়া মিলে যায়। ভক্তরা মনে করেন, এখানে ধর্ম-বর্ণ অর্থ রাখে না। ভক্তি ও বিশ্বাসই প্রকৃত মিলন। মন্দিরে প্রতিটি প্রদীপ, প্রতিটি চাউমিনের ভোগ যেন ভক্তদের হৃদয়ে স্থায়ী স্মৃতি হয়ে যায়, আর দেবীর আশীর্বাদ তাদের জীবনের সঙ্গে এক অনন্ত বন্ধন গড়ে তোলে।





