রাতটা যেন আর পাঁচটা সাধারণ রাতের মতো ছিল না। আকাশের দিকে তাকিয়ে বহু মানুষ বুঝতে পারছিলেন কিছু একটা অস্বাভাবিক ঘটছে। হঠাৎ করেই আকাশে জ্বলে উঠছে আলো, শব্দ হচ্ছে বিস্ফোরণের, আর কানে আসছে সাইরেন। অনেকেই বাড়ির জানলা বন্ধ করে প্রার্থনা করছেন, আবার কেউ কেউ ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। এত বড় আকারে এমন ঘটনা এর আগে কেবল সিনেমাতেই দেখা গিয়েছে—কিন্তু এবার বাস্তবেই যেন সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি।
জম্মু, পাঞ্জাব, রাজস্থান বা গুজরাট—সব রাজ্যের মানুষই ওই রাতটিকে কখনও ভুলতে পারবেন না। অনেকে ভাবছেন, এটা কি যুদ্ধ? না কি কোনও বিশেষ সামরিক অনুশীলন? কেউ কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়াতে শুরু করেছেন। কিন্তু প্রশাসন তখনও পর্যন্ত কোনও নিশ্চিত বিবৃতি দেয়নি। ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়তে থাকে।
সেনা সূত্রে যা জানা যাচ্ছে, তাতে এই আতঙ্কের উৎস পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। ৮ মে রাত ৮টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত, পাকিস্তান থেকে ভারতের দিকে প্রায় ৫০০টি ছোট ড্রোন পাঠানো হয়। লক্ষ্য ছিল জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান এবং গুজরাটের মোট ২৪টি শহর। সেনা সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এটি ছিল একটি সংগঠিত এবং পরিকল্পিত আক্রমণ, যেখানে একযোগে বিভিন্ন দিক থেকে ভারতে ড্রোন পাঠানো হয়।
এই ড্রোন হামলার মোকাবিলা করতে ভারতীয় সেনা ও বিমান বাহিনী একসঙ্গে মাঠে নামে। তারা ব্যবহার করে L70, ZU-23, Schilka এবং Akash-এর মতো অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। ইন্ডিয়া টুডে টিভির একচেটিয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে পাকিস্তানি ড্রোন ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হাতে ধ্বংস হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ড্রোনগুলির মধ্যে বেশিরভাগই ছিল নিরস্ত্র, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সামরিক তথ্য সংগ্রহ।
এই ঘটনার ঠিক একদিন আগেই, ৭ মে ভোরে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলিতে বড়সড় হামলা চালায়। ভারত স্পষ্ট জানিয়েছিল, সেই আক্রমণে শুধুমাত্র সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করা হয়েছিল, পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিকে নয়। তবে মনে করা হচ্ছে, এর প্রতিশোধ নিতেই পাকিস্তান ৮ মে রাতে এই ড্রোন হামলার চেষ্টা করে।
আরও পড়ুনঃ Kabir Suman on Operation Sindoor : ‘গান দিয়েই যুদ্ধ থামাতে চাই’, অপারেশন সিঁদুরের মাঝে কবীর সুমনের ব্যতিক্রমী বার্তা ঘিরে চরম বিতর্ক!
ড্রোন হামলার পাশাপাশি পাকিস্তান আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। সেনা সূত্র জানাচ্ছে, পাকিস্তান থেকে সাতোয়ারি, সাম্বা, আরএস পুরা এবং আরনিয়া লক্ষ্য করে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। সৌভাগ্যবশত, সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্রই ভারতীয় বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট সফলভাবে প্রতিহত করে। জম্মুর আকাশে সেদিনের দৃশ্য ইসরায়েলে হামাসের রকেট আক্রমণের কথাই মনে করিয়ে দেয়। যুদ্ধ না হলেও, উত্তেজনার পারদ ক্রমাগতই চড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের আক্রমণ ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে।





