গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে সেনাবাহিনীর উপর একের পর এক হামলা রীতিমতো আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সেনা মহলে। শুধু হামলাই নয়, ঘটছে অপহরণও। এমনকি, আতঙ্কে প্রাণ হারাচ্ছেন সেনার শীর্ষ আধিকারিকরাও। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এমন বিপর্যস্ত পরিস্থিতি সাম্প্রতিক ইতিহাসে খুব কমই দেখা গিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন উঠছে—এই অবস্থা চলতে থাকলে পাক সেনার মনোবল ভেঙে পড়বে না তো?
সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখোয়ার ট্যাঙ্ক অঞ্চলে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। একটি গাড়িতে সফর করছিলেন তিনজন পাকিস্তানি আধিকারিক। তাঁদের ঘিরে ধরে স্থানীয় বিদ্রোহীরা। আতঙ্কের পরিবেশে জেলা অ্যাকাউন্ট অফিসার নাভিদ জাফর খান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য দুই আধিকারিককে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিদ্রোহীরা তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার ঠিক একদিন আগেই, বালোচিস্তানে এক সংঘর্ষে প্রাণ হারান পাকিস্তান সেনার মেজর মইজ আব্বাস শাহ। যাঁকে ভারতের পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে বন্দি করার জন্য ২০১৯ সালে অন্যতম মূল ব্যক্তি বলে মনে করা হয়। বালাকোট অপারেশনের পরে অভিনন্দনের যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে এবং তিনি পাকিস্তানের হাতে ধরা পড়েন। মইজ আব্বাস সেই ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক ছিলেন। এবার বিদ্রোহীদের গুলিতে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু সেনামহলে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।
শুধুমাত্র জুন মাসেই বালোচিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বহু সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। বালোচ লিবারেশন আর্মির গেরিলা কৌশলের সামনে কার্যত বেকায়দায় পড়েছে পাকিস্তান। এই বিদ্রোহীরা অভিযোগ এনেছে—তাদের কর্মীদের অপহরণ ও হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালানো হচ্ছে। এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে পরিস্থিতি, যেখানে সেনার দল সীমান্তবর্তী বহু অঞ্চলে অভিযান চালাতে ভয় পাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Rath Yatra 2025 : রথযাত্রার মাঝেই হাতির তাণ্ডব! ১৫ মিনিট বন্ধ উৎসব, পদপিষ্টে জখম ভক্তরা!
পরিস্থিতি এতটাই সঙ্কটজনক যে, সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মঞ্চে জবাবদিহি করতে হয়েছে। সম্প্রতি আমেরিকায় পাক বংশোদ্ভূত নাগরিকদের কাছেও তাঁকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক প্রশাসন এখন এক কঠিন সঙ্কটের মুখোমুখি, যেখানে প্রতিনিয়ত ক্ষয়ে যাচ্ছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং বাহিনীর মনোবল। বিদ্রোহীদের দমন নয়, বরং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ পাকিস্তান সেনার সামনে।





