আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে ফের তীব্র উত্তেজনা। কানাডায় খলিস্তানি চরমপন্থীদের কার্যকলাপ নতুন করে ভারত-কানাডা সম্পর্ককে বিপদসীমায় এনে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার হুমকি দিয়েছে খলিস্তানি সমর্থকেরা। এখানেই শেষ নয়, কানাডার মাটিতে ভারতের জাতীয় পতাকাকেও অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি টেলিফোনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আগামী জি-৭ (G-7) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। কানাডার আলবার্টা প্রদেশে ১৫ থেকে ১৭ জুন এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। মোদীর আমন্ত্রণের খবর সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে খলিস্তানি গোষ্ঠীগুলি। তারা এই আমন্ত্রণকে ভারতবিরোধী বিক্ষোভের নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে। ফলে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার-সহ একাধিক শহরে খলিস্তানি সমর্থকেরা রাস্তায় নামেন।
ভ্যাঙ্কুভারের বিক্ষোভ চলাকালীন খলিস্তানি সমর্থকেরা প্রকাশ্যে ‘মোদীকে হত্যা’র স্লোগান দেয়। কানাডার অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোচা বেজিরগান জানিয়েছেন, তিনি এই ঘটনার ভিডিয়ো ধারণ করার সময় খলিস্তানি সমর্থকেরা তাঁকে ঘিরে ফেলে এবং শারীরিক হুমকি দেয়। বিক্ষোভকারীরা আরও দাবি তোলে, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মতই নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটানো হবে।
এখানেই শেষ নয়। বিক্ষোভের মধ্যে তরোয়াল দিয়ে ভারতের জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে সেটিকে আগুনে পোড়ানো হয় বলে অভিযোগ। ইতিপূর্বে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবরও একই ধরনের ঘটনার সাক্ষী থেকেছে কানাডা। সেবার খলিস্তানি সমর্থকেরা প্রধানমন্ত্রী মোদীর কুশপুতুল ও জাতীয় পতাকা অপমান করেছিল।
আরও পড়ুনঃ Assam : নতুন করে বড় অভিযান! অসম থেকে ফেরত ৩৩০ বাংলাদেশি, এবার গৌরব গগৈকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী!
নিষিদ্ধ সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’-এর (SFJ) প্রধান গুরপতবন্ত সিং পান্নুন এবারও খলিস্তানি সমর্থকদের উস্কে দিয়েছেন। এক ভিডিয়ো বার্তায় পান্নুন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে বলেন, জি-৭ সম্মেলনের মঞ্চ খলিস্তানিদের ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ এনে দিয়েছে। মোদীর সফর চলাকালীন ‘ল্যান্ডিং টু টেকঅফ’—এই ৪৮ ঘণ্টার জন্য বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন পান্নুন। ভারতের পক্ষ থেকে এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতের বিরুদ্ধে খলিস্তানি সন্ত্রাসী হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন, যা ভারত সরাসরি নস্যাৎ করেছিল।





