ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ। কিন্তু কিছু ঘটনার অভিঘাত এমনভাবে প্রকাশ পায়, যা ভবিষ্যতের কূটনৈতিক হিসাবনিকাশও পাল্টে দিতে পারে। সম্প্রতি এমনই এক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি সামনে এল পাকিস্তানের তরফ থেকে। কূটনীতিকদের ভাষায়, এই স্বীকারোক্তি এক রকম ‘ডিপ্লোম্যাটিক সারেন্ডার’! কারণ, ভারতের একটি সামরিক অভিযানের জেরে পাকিস্তান যে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয়েছিল, তা নিজ মুখেই স্বীকার করলেন পাকিস্তানের বর্তমান উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসাক দার (Ishaq Dar)।
সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসাক দার বলেন, “রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটি ও পাঞ্জাবের শরকোটের পিএএফ ঘাঁটি রফিকি-তে ভারতীয় বায়ুসেনা আঘাত হানে। সেই আক্রমণ এতটাই ধ্বংসাত্মক ছিল যে আমাদের যুদ্ধবিরতির আবেদন জানাতে হয়।” এমনকী তিনি এটাও জানান, যুদ্ধ থামাতে প্রথমে আমেরিকা এবং পরে সৌদি আরবের সাহায্য প্রার্থনা করেছিল ইসলামাবাদ।
পাক উপ-প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাত আড়াইটে নাগাদ হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। এর ৪৫ মিনিটের মধ্যে সৌদি প্রিন্স তাঁকে ফোন করে জানান যে, মার্কিন বিদেশ সচিবের সঙ্গে কথোপকথনের খবর তিনি জেনেছেন এবং জানতে চান ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে কি না। ইসাক দার সম্মতি দেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সৌদি প্রিন্স জয়শঙ্করকে পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তুতির বিষয়টি জানিয়ে দেন।
ভারতের এই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ধ্বংস করা হয় পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তত ৯টি জঙ্গিঘাঁটি। নিধন হয় ১০০-র বেশি জঙ্গি। পাল্টা হামলার চেষ্টা করেও কার্যত ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। তাদের তুর্কি ড্রোন ও চিনা মিসাইল দিয়ে চালানো হামলা ভারতীয় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম রুখে দেয়। জম্মু-কাশ্মীর থেকে গুজরাত পর্যন্ত বেশ কয়েকটি এলাকা টার্গেট করলেও, পাকিস্তানের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : জুতো ছোড়া, বাইক আটক, ধস্তাধস্তি! পশ্চিমবঙ্গ দিবস কর্মসূচিতে ফের উত্তপ্ত রাজনীতি!
চার দিনের এই তীব্র সংঘাতের পর শেষপর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায়, পাকিস্তান প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছে ভারতের সামরিক ক্ষমতার সামনে তাদের সীমাবদ্ধতা। আর এই স্বীকারোক্তিই গোটা বিশ্বের সামনে পাকিস্তানের এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে।





