নতুন বিতর্কে জড়াল রাজ্য রাজনীতি। ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’পালন ঘিরে ফের মুখোমুখি শাসক ও বিরোধী। শুক্রবার দুপুরে কলকাতার রাজপথে দেখা গেল রাজনৈতিক উত্তেজনার চেনা ছবি। গলা ফাটিয়ে স্লোগান, হাতে পতাকা, বাইকের হর্ন আর পথ আটকে পুলিশের ঘেরাটোপ— সব মিলিয়ে গোটা ভবানীপুর এলাকাই যেন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। কিন্তু কী ঘটেছিল হঠাৎ?
বিজেপির দাবি, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার সকালে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করতে চেয়েছিলেন তারা। দিনটি যে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে, তার সরকারি ঘোষণা আগেই হয়েছিল। সেই উপলক্ষে এদিন বিজেপির কর্মসূচি শুরু হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদানের মধ্যে দিয়ে। বিজেপির পরিকল্পনা ছিল সেখান থেকে একটি বাইক মিছিল করে নেতাজি ভবনের দিকে যাওয়ার। বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও বাইকে করে এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন।
কিন্তু মিছিল শুরু হতেই বিপত্তি! পুলিশের তরফে সেই বাইক মিছিল আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, ভবানীপুর এলাকায় মহিলা পুলিশ মোতায়েন করে তাঁদের বাইক আটকে দেওয়া হয়। সুকান্ত মজুমদারকে লক্ষ্য করেই ছিল এই বাধা, এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। এমনকি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ছবিও উঠে এসেছে বিভিন্ন ক্যামেরায়। যদিও পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, কোনও রকম অনুমতি ছাড়াই এই মিছিল সংগঠিত করা হচ্ছিল, তাই সেই পথ আটকানো হয়েছিল।
সুকান্ত মজুমদার অবশ্য একা বাইকে চেপে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, পাশে ছিল তাঁর নিরাপত্তারক্ষীর দল। তাঁকে রীতিমতো ঘিরে রাখা হয়। তবু তিনি অগ্রসর হন নেতাজির বাড়ির দিকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, একদিকে যখন একটি বিশেষ দিনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের চেষ্টা হচ্ছে, তখন কেন পুলিশ বাধা দিচ্ছে?
আরও পড়ুনঃ ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ নিয়ে বিতর্ক! পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রির বিরুদ্ধে FIR দায়ের, থানায় অভিযোগ তৃণমূল নেতার
এই নিয়ে দ্বিতীয় দিনের জন্য রাস্তায় বাধার মুখে পড়লেন সুকান্ত মজুমদার। বৃহস্পতিবার বজবজের একটি সভায় যোগ দিতে গিয়ে তাঁর দিকে জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন সুকান্ত। একজন সাংসদের সঙ্গে এমন অপমানজনক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। বিজেপির দাবি, গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যেই এই ধরনের আচরণ করা হচ্ছে। তবে শাসক দল এই অভিযোগ মানতে নারাজ।





