দীর্ঘ ৩৪ বছর কেটে গেছে। যা এতদিন চীনের কব্জায় ছিল তাই এবার নিজ অধিকারে ছিনিয়ে নিল ভারত। অবশেষে অরুণাচল প্রদেশের সামডোরং চু উপত্যকার ২০২ একর (202 Acres) জমি ৩৪ বছর পর পুনরুদ্ধার হল। অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং জেলা দিয়ে বয়ে চলেছে সামডোরং চু নদী। নামকা চু ও নিয়ামজাং চুর সঙ্গম থেকে উত্তর পূর্বে বইছে এই নদী। চীনের সেনা ১৯৮৬-তে লাংরো লা পাস এলাকায় এই নদীর তীরের ২০২ একর ঘাসজমি দখল করার চেষ্টা করে। সে সময় ভারত-চীনের সেনা পরস্পরের মুখোমুখি মোতায়েন ছিল দীর্ঘ ৮ মাস ধরে।
লাদাখে সংঘর্ষের আগে শেষবার চীনের বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় মোতায়েন হন ২০০ ভারতীয় সেনা। ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে সামডোরং চু বিতর্কের শুরু। সাল ১৯৮০। চীনের হাত থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই উপত্যকা বাঁচানোর লক্ষ্যে ১৯৮২-৮২ সালে ইন্দিরা তৎকালীন জেনারেল কেভি কৃষ্ণ রাওয়ের পরিকল্পনায় মঞ্জুরি দেন। কৃষ্ণ রাও বলেছিলেন, ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সর্বাধিক সেনা মোতায়েন করতে হবে। এরপর ১৯৮৪-র গ্রীষ্মে সামডোরং চু-তে অবজার্ভেশন পোস্ট তৈরি করে ভারত। গ্রীষ্মে সেখানে সেনা বসে থাকত, শীতে চলে যেত। এই ভাবেই ২ বছর চলার পর ১৯৮৬-র জুনে হঠাৎই ভারতীয় টহলদারি দল দেখে, চৈনিকরা ওই এলাকায় স্থায়ী পোস্ট বানিয়ে ফেলেছে, তৈরি করেছে হেলিপ্যাড। কৌশলগতভাবে ওই এলাকার যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ায় ওই এলাকার প্রতি চীনের লোভ বরাবরই ছিল।
এই ঘটনার পর ভারত সেখানে চিরকালীন অবস্থার হিসেবে ২০০ সেনা মোতায়েন করে। কিন্তু ভারতের তরফে পড়শী দেশকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, যদি তারা শীতের মধ্যে ওই এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেয়, তবে ভারত তা পুনর্দখল করবে না। কিন্তু চীন সেই প্রস্তাব নাকচ করে। এরপর টানা দীর্ঘ ৮ মাস ধরে ওই এলাকায় মুখোমুখি ছিল ভারত ও চীন সেনা। কোনও সংঘর্ষ না হলেও ভারতীয় সেনার আয়তন দেখে চীন এলাকা ছাড়ে।
এখন পূর্ব লাদাখে ভারত-চীন অশান্তির জেরে অরুণাচলেও ভারতীয় সেনার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। চিন সীমান্তের কৌশলগত এলাকাগুলিতে সবরকম প্রস্তুতি রাখছে ভারত। সামডোরং চু-র যে ২০২ একর জমি নিয়ে বিতর্ক ছিল, সেটিতে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পরিকাঠামো নির্মাণে হাত দিয়েছে দিল্লি।





