বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে ফের একবার বিতর্কে উঠে এল রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল। সম্প্রতি একটি খবরে দাবী করা হয়েছে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। আর সেই দাবিকে ঘিরেই শুরু হয়েছে জল্পনার পারদ চড়া। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তিনি ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘সহজ ও সঠিক’ বলেও স্বাগত জানান। কিন্তু আদৌ কি ভারত তেল কেনা বন্ধ করেছে? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও কূটনৈতিক কৌশল?
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই ইস্যু আরও আলোচনায় উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, ভারতীয় সংস্থাগুলি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগতও জানিয়েছেন। তবে এই মন্তব্যের পরপরই শুরু হয়ে যায় বিতর্ক—ভারত কি আদৌ রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে, নাকি এটা শুধুই মার্কিন প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক কৌশল?
এই প্রসঙ্গে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, দেশের তেল আমদানির সিদ্ধান্ত বাজারের পরিস্থিতি এবং জাতীয় স্বার্থ দেখে নেওয়া হয়। রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলেও উড়িয়ে দিয়েছে সূত্রগুলি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণদীপ জয়সওয়াল বলেন, ‘‘জ্বালানি কেনা সম্পূর্ণভাবে বাজারের চলমান অবস্থা এবং দেশের প্রয়োজনে নির্ভরশীল।’’
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার ভূমিকা আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। জানা গিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল এবং অস্ত্র কেনার জন্য ভারতকে কার্যত শাস্তি দিতেই বেশ কিছু পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এই শুল্ক কার্যকর হবে ৭ অগাস্ট থেকে। শুধু তাই নয়, ভারতীয় সংস্থাগুলির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আমেরিকা রাশিয়া থেকে আমদানির বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক কৌশল নিতে শুরু করেছে। ফলে কিছু সংস্থা গত সপ্তাহ থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ বুধের চালেই খুলে যাবে কপাল! ৫ রাশির ভাগ্যে লটারি, টাকা আসবে কাঁড়ি কাঁড়ি!
সবশেষে, কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বহু পুরনো এবং ‘সময় পরীক্ষিত’। বর্তমান আন্তর্জাতিক চাপ এবং মার্কিন হুমকির মধ্যেও নয়াদিল্লি-মস্কো সম্পর্ক স্বাভাবিক ছন্দেই চলছে। একইসঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ভারতের কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় থাকবে বলেই জানানো হয়েছে। ফলে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোই বোধহয় যুক্তিযুক্ত।





