বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ভারতের প্রাক্তন নৌ অফিসার কুলভূষণ যাদবকে পাকিস্তানে আটকে রাখা নিয়ে তোলপাড় হয়েছে ভারত পাকিস্তান পারস্পরিক সম্পর্ক। চরবৃত্তির অভিযোগে আটকে রাখা এই অফিসারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে পাকিস্তানি আদালত যার বিরোধিতা করে আসছে ভারত।
সম্প্রতি এই মামলায় একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। সোমবার তারা জানিয়েছে যে কুলভূষণ যাদব নিজের স্বপক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। তাঁর হয়ে ভারত সরকার এই কাজ করতে পারবে। তিনি নিজের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য যে পিটিশন ফাইল করতে চেয়েছেন সেটিকে রিপ্রেজেন্ট করবেন ভারতের ঠিক করে দেওয়া আইনজীবী এরকমটাই জানা গিয়েছে।
ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এই মামলাটি আগামী ৩রা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে। পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল খালিদ জায়েদ খান যিনি সোমবার এই মামলার শুনানিতে ছিলেন তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, কুলভূষণ যাদব কে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া হবে তাঁর স্বপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করার জন্য। সেই সময় সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেন যে তাহলে কি কোন ভারতীয় আইনজীবী এই মামলা লড়তে পারবেন? পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল সাফ জানিয়ে দেন যে একমাত্র পাকিস্তানি আইনজীবী এবং যে সকল আইনজীবীর পাকিস্তানের প্র্যাকটিস করার অনুমতি রয়েছে তারাই এই মামলা লড়বেন। তবে কোন ভারতীয় আইনজীবী এই মামলায় সহকারি হিসেবে কাজ করতে পারবেন কিনা সেই নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
২০১৬ সালের মার্চ মাসে বালুচিস্তানের পাকিস্তানি নিরাপত্তা সংস্থা কুলভূষণ যাদবকে গ্রেফতার করে চরবৃত্তির অভিযোগে। ভারত অভিযোগ খারিজ করে দেয় এবং বিবৃতি দিয়ে জানায় যে কুলভূষণ যাদব কে মিথ্যা অভিযোগে পাকিস্তান অপহরণ করেছে।
সম্প্রতি ভারত জানিয়েছিল যে পাকিস্তান কুলভূষণ যাদব মামলায় ভারতকে কোনরকম ভাবে সাহায্য করতে দিচ্ছে না। তারপরে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন ভাবে এই বিষয় নিয়ে সংঘাত হতে থাকে। অবশেষে সোমবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে ভারত কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে।





