নেপালে অশান্তি যেন থামছেই না, রাজনৈতিক অশান্তি, জনরোষ আর অব্যাহত বিক্ষোভের জেরে হিমালয়ের কোলে থাকা এই দেশ আবারও বড় পরিবর্তনের পথে দাঁড়িয়ে। রাস্তায় বিক্ষুব্ধ জনতা, পদত্যাগে বাধ্য রাজনৈতিক নেতারা এবং হঠাৎ করেই সামনে চলে আসা সেনা,সব মিলিয়ে নেপালে যেন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ফের রাজতন্ত্রের দিন ফিরছে নেপালে?
গতকাল গণঅভ্যুত্থানের চাপে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। প্রথমে তিনি পদত্যাগ করতে অস্বীকার করলেও পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে আর উপায় ছিল না। শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, রাষ্ট্রপতিও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর থেকেই দেশের শীর্ষ আমলাদের প্রতি ক্ষোভ উগরে দেন সাধারণ মানুষ। রাস্তায় নেমে অনেককে হেনস্থা করা হয়। হঠাৎ করেই প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয় দেশজুড়ে।
এই অরাজকতার মাঝেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন নেপালের সেনা প্রধান অশোক রাজ সিদগেল। তিনি স্পষ্ট জানান, আপাতত শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সেনার হাতে। জনগণের নিরাপত্তা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই বক্তব্যের থেকেও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে ভাষণ দেওয়ার পটভূমি। তাঁর পিছনে ছিল নেপালের পতাকা আর প্রথম রাজা পৃথ্বীনারায়ণ শাহের প্রতিকৃতি। অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে নীরবে রাজতন্ত্র ফেরানোর বার্তা দিলেন সেনাপ্রধান।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সংসদীয় ঘোষণার মাধ্যমে নেপালের ২৪০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো হয়। কিন্তু মাঝেমধ্যেই রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি ওঠে। চলতি বছরেও কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন জায়গায় এই দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল, যা পরে হিংসায় রূপ নেয়। এবার যে আন্দোলন দেশকে নাড়িয়ে দিল, তার মূল কেন্দ্রে ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরোষ। এই আন্দোলনের চাপে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, সেনার সরাসরি হস্তক্ষেপ সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আবারও রাজতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কা বা প্রত্যাশা জেগে উঠছে।
আরও পড়ুনঃ Modi Trump : বন্ধুত্বে ফাটল পেরিয়ে নয়া সম্ভাবনা! বাণিজ্য চুক্তির দিয়ে মোদিকে ফোন করতে চান ট্রাম্প, জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষার সুর!
মঙ্গলবার রাতে সেনা প্রধান জনগণকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান এবং আন্দোলন স্থগিত করার অনুরোধ করেন। তবে রাজনৈতিক সমাধানের রাস্তা এখনও অচেনা। ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহর নাম উঠে আসছে। তিনি জানিয়েছেন, সংসদ ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত কোনও আলোচনায় তিনি যাবেন না। একদিকে সেনার কড়া অবস্থান, অন্যদিকে জনতার ক্রোধ এই দ্বন্দ্বের মাঝেই নেপালের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। আর সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে প্রশ্ন হিমালয়ের দেশ কি ফের রাজতন্ত্রের ছায়ায় ঢেকে যাবে?





