IMA : বাউন্সার ঘেরা ভোটে কারচুপির ছাপ! পদ খোয়ালেন IMA-র ‘সুপার সেক্রেটারি’ শান্তনু সেন!

রাজ্যের চিকিৎসক মহলে ফের উঠল বিতর্কের ঝড়। চিকিৎসা যেমন মানবসেবার পবিত্র পেশা, তেমনই এই পেশার সঙ্গে জড়িত সংগঠনগুলির মধ্যে স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যে এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা শুধু চিকিৎসক মহল নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। গায়ে সাদা অ্যাপ্রোন পরা মানুষদের সংগঠনে যখন ‘বাউন্সার’ নিয়োগ হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে— চিকিৎসার আড়ালে ঠিক কী চলছে?

মানুষের জীবনের সঙ্গে যাঁরা সরাসরি জড়িত, সেই চিকিৎসকদের সংগঠনেও যদি কারচুপির অভিযোগ ওঠে, তাহলে চিকিৎসক পেশার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। চিকিৎসকদের প্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় হতাশ রাজ্যের বহু চিকিৎসক। আবার সাধারণ মানুষের একাংশও বলছেন, যাঁদের উপর চোখ বুজে ভরসা করি, তাঁদের সংগঠনেই যদি এমন অভিযোগ উঠে, তাহলে আমরা যাব কোথায়?

গত ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল IMA-র রাজ্য শাখার নির্বাচনের ভোটগণনা। আর সেখানেই নিয়োগ করা হয়েছিল বাউন্সার! চিকিৎসকদের ভোট গণনায় এমন বাহুবলের ছবি দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলেন অনেকেই। অভিযোগ ওঠে, ব্যাপক কারচুপি হয়েছে ওই নির্বাচনে। জয়ী হন শান্তনু সেন, যিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ডেড এক চিকিৎসক। সাতবারের জন্য সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু ভোটের ফল মেনে নিতে পারেননি অন্য প্রার্থী সজল বিশ্বাস।

সজল বিশ্বাস IMA-র কেন্দ্রীয় শাখার কাছে আবেদন জানান, শান্তনু সেনের সমর্থকদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছিল, বিরোধী চিকিৎসকদের অনেকেই ব্যালটই পাননি। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের আগে থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এইসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় IMA ২০২৫-২৭ বর্ষের রাজ্য শাখার সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে। নির্দেশ দেওয়া হয়, পুরো কমিটিকেই বাতিল করতে হবে এবং আগামী ২ মাসের মধ্যে ফের ভোট করাতে হবে।

আরও পড়ুনঃ Pakistan: ভারতের হামলার রাতে শরিফকে ফোন সেনাপ্রধানের! কী বলেছিলেন আসিম মুনির? অবশেষে ফাঁস করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী!

সব অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর অবশেষে IMA-র কেন্দ্রীয় শাখা বড়সড় সিদ্ধান্ত নেয়— রাজ্য শাখার নির্বাচনের ফলাফল বাতিল। সেই সঙ্গে বাতিল হয় সম্পূর্ণ কমিটিও। অর্থাৎ পদ হারালেন টানা সাতবারের সাধারণ সম্পাদক শান্তনু সেন। উল্লেখযোগ্য, আরজি কর কাণ্ডে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোয় শান্তনু সেনকে আগেই তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এবার চিকিৎসকদের সংগঠন থেকেও তাঁকে ছেঁটে ফেলল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles