ভারতীয় দূতাবাসের দুই কর্মীকে আটকে রেখে অকথ্য অত্যাচার পাকিস্তানের, ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ছড়াল প্রবল চাঞ্চল্য

যতই সাধু সাজতে যাক না কেন, পাকিস্তান যে হিংসার পথ ছাড়া অন্য কিছু জানে না এ কথা আজ আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। ভারতের প্রতি আজন্ম শত্রুতা পালন করে আসছে পড়শি দেশ পাকিস্তান। ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপর তাদের বারবার আঘাত হানা তারই প্রমাণ। এবার পাকিস্তানে ভারতীয় হাইকমিশনের দুই কর্মীকে অপহরণ করে যেভাবে তাদের উপর নৃশংস অত্যাচার চালানো হয়েছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তা রীতিমত নিন্দনীয়।

সোমবার সকাল থেকেই পাকিস্তানের তরফ থেকে প্রচার করা হয় যে ভারতীয় হাইকমিশনের দুই কর্মীকে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই নয়াদিল্লি এই তত্ত্ব কোনোভাবেই মানতে চায়নি। আর গত রাতেই প্রমাণিত হয়ে গেল যে পাকিস্তান মিথ্যা কথা বলছে। সূত্রের খবর, ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের ওই দুই কর্মীকে অপহরণ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাদের উপর চালানো হয়েছে অকথ্য অত্যাচার। তাঁদের রড বা কাঠ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। নোংরা জল খাওয়ানো হয়েছে জোর করে। সোমবার রাতে তাঁদেরকে ভারতের প্রবল চাপে ভারতের হাতে হস্তান্তর করা হয়। আর এই কর্মীদের বয়ানেই উঠে আসে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সোমবারে দিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সৈয়দ হায়দার শাহ কে ডেকে পাঠানো হয়। তাকে ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে পাকিস্তানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীদের সুরক্ষার সমস্ত দায়িত্ব কিন্তু ইমরান খান প্রশাসনেরই। এরপর পাকিস্তান যখন দেখে যে ভারত সুর চড়াচ্ছে তখন তারা বলতে থাকে যে এই কর্মী দু’জন সম্ভবত দুর্ঘটনায় পড়েছেন। কিন্তু ভারত আরো চাপ বাড়াতে থাকায় নতি স্বীকার করে পাকিস্তান এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টা টানাপোড়েনের পর ভারতের হাতে ওই দুই কর্মীকে তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের শরীরে তখন অত্যাচারের চিহ্ন স্পষ্ট।

তখনই প্রমাণ হয়ে যায় যে পাকিস্তান দুর্ঘটনার তত্ত্ব সাজানো ছিল তা পুরোপুরি ভাবে মিথ্যা। পরিকল্পনা করে ভারতের দুই কর্মীকে অপহরণ করা হয়েছিল। তাঁদের বয়ানে জানা গিয়েছে সোমবার সকাল ৮ টা ৩০ মিনিট থেকে ৮ টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে হাইকমিশনের কাছের একটি পেট্রোল পাম্প থেকে দুই কর্মীকে তুলে নিয়ে যায় ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র দল। তারা ৫-৬ টি গাড়িতে করে এসেছিল। এই কর্মীদের চোখ বেঁধে দিয়ে তাঁদের হাতকড়া পরিয়ে দেওয়া হয়। মাথার উপর রুকস্যাক ছুঁড়ে দিয়ে তাদেরকে গাড়িতে তোলা হয়। তারপর তাদের প্রায় দশ মিনিট ধরে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি জায়গায় রাখা হয়। সেখানে তাদের ওপর চলে অকথ্য অত্যাচার। তারা ভারতের হয়ে চরবৃত্তি করছে কিনা সেই নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকে ওই অপহরণকারীরা। তাঁদের রড বা কাঠ জাতীয় কিছু দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারা হয় ঘুঁষি। নোংরা জল খাওয়ানো হয়। তাদের কাছ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনের উচ্চপদস্থ থেকে নিচু স্তরের কর্মী, সবার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

আর এরপরে অপহরণকারীরা এই ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে সাজায় এবং ওই দুই কর্মীকে একটি ভিডিওতে জোর করে স্বীকারোক্তি দেওয়ায় যে তাঁরা ভারতের হয়ে চরবৃত্তি করতেন এবং বৈঠকের জন্য গাড়ির পিছনে লুকিয়ে লোকজনকে হাইকমিশনে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা কর্তারা বাধ্য করতেন। জোর করে তারা এসব বলতে বাধ্য করে ওই দুই কর্মীদের। এছাড়াও বলা হয় যে পাকিস্থানে ভারতীয় দূতাবাসের অন্যান্য কর্মীদেরও পরেও তারা কিন্তু এরকম ভাবেই আঘাত হানবে। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের টিটেনাস দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুরো ঘটনা শুনলে মনে হবে যেন সিনেমার দৃশ্য দেখছি কিন্তু বাস্তবে ভারতীয় দূতাবাসের ওই দুই কর্মী এতটাই অত্যাচার সহ্য করেছেন পাকিস্তানের হাতে।

অপরদিকে যখন পাকিস্তানের ওপর ভারত ক্রমশ চাপ বাড়াতে থাকে তখন বাধ্য হয়ে রাত ন’টা নাগাদ দুই কর্মীকে ভারতীয় হাইকমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে হইচই শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের এই নৃশংসতার জবাব ভারত কীভাবে দেবে তাই এখন দেখার।

RELATED Articles

Leave a Comment