মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বড়সড় রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কা জাগছে। সেনেটে ব্যয়-বিল অনুমোদন না হওয়ায় সরকার কার্যত শাটডাউনের মুখে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, বুধবার থেকেই সরকারি কাজকর্ম থমকে যেতে পারে। ফলে এক ধাক্কায় বিমান পরিষেবা থেকে শুরু করে গবেষণা ও ব্যবসা— নানা ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে চলেছে । শুধু জরুরি পরিষেবাগুলি চালু থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ছিল আমেরিকার চলতি অর্থবর্ষের শেষ দিন। নিয়ম অনুসারে, ১ অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবর্ষ শুরু হয়। সেই জন্য প্রশাসনের নতুন তহবিল প্রয়োজন ছিল, কিন্তু রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা একমত হতে না পারায় বিলটি সেনেটে আটকে গিয়েছে। রিপাবলিকানরা জরুরি ভিত্তিতে একটি স্বল্পমেয়াদি তহবিল পাশ করাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা মেলেনি। সেনেটে এই ধরনের বিল পাশ করাতে অন্তত ৬০ ভোট দরকার, আর রিপাবলিকানদের হাতে আছে মাত্র ৫৩টি। ফলে প্রস্তাব আটকে যাওয়াটা একরকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।
ওয়াশিংটনেই টানা কয়েক দফায় বৈঠক করেও সমঝোতায় পৌঁছতে পারেননি দুই দলের নেতারা। সোমবার বৈঠকের শেষে ডেমোক্র্যাট সেনেটর চাক স্কুমার স্পষ্টই বলেছিলেন, মতানৈক্য খুব গভীর ও আপাতত মেটানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে, পরিস্থিতির দায় ডেমোক্র্যাটদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর হুঁশিয়ারি, শাটডাউনের মধ্য দিয়েই ‘অপ্রয়োজনীয় খরচ’ কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারী কর্মীদের ছাঁটাই করা নিয়েও রীতিমতো হুমকি দিয়েছেন তিনি।
শাটডাউন কার্যকর হলে তার প্রভাব পড়বে আমেরিকার সাধারণ নাগরিকদের উপরই। হাজার হাজার সরকারি কর্মী সাময়িকভাবে চাকরিহারা হবেন বা বেতন আটকে যাবে। বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বন্ধ থাকবে। সেনা, সীমান্তরক্ষী ও এয়ার ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাবেন বটে, তবে শাটডাউন না কাটা পর্যন্ত তারাও বেতন পাবেন না। ছোট ব্যবসার জন্য ঋণ বিতরণ বন্ধ হয়ে যাবে, থমকে যেতে পারে গবেষণা, বিনিয়োগ ও পরিকাঠামোগত কিছু কাজ।
আরও পড়ুনঃ ‘মোদীজি আপনি বিশ্বাসঘাতক!’ লাদাখে রক্তক্ষয়ী অশান্তি, মোদীকে নিশানা রাহুল গান্ধীর
অতীতে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়েই দীর্ঘতম শাটডাউনের সাক্ষী হয়েছিল আমেরিকা। ২০১৮-১৯ সালে সেই স্থবিরতা টেনেছিল ৩৫ দিন পর্যন্ত। এবারও পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আপৎকালীন পরিষেবা সচল থাকলেও, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তার প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের এই টানাপোড়েনের জেরে যে পরিস্থিতির মধ্যে সাধারণ মানুষ পড়তে চলেছেন, তা থেকে মুক্তির পথ এখনও স্পষ্ট নয়।





