দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চলা দ্বন্দ্ব ফের একবার সামনে চলে এসেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ও সীমান্তে ক্রমাগত উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সাধারণ মানুষের মনে। বহুবার এই দুই দেশ মুখোমুখি এসেছে, যার প্রভাব শুধু উপমহাদেশে নয়, গোটা বিশ্ব রাজনীতিতেই পড়েছে। পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে এই দুই রাষ্ট্রের সংঘাত মানেই আন্তর্জাতিক স্তরে চরম উদ্বেগ। সম্প্রতি এমন কিছু ঘটেছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বাস্তব করে তুলছিল।
একদিকে যখন দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে, তখন আর একদিকে আন্তর্জাতিক স্তরে নানা চেষ্টার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এই সংঘাত ঠেকানো যাবে তো? গত কয়েক বছরে একাধিকবার এমন সময় এসেছে, যখন মনে হয়েছে যুদ্ধ হয়তো আর কয়েক কদম দূরে। সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা আবার সেই আশঙ্কাকেই বাড়িয়ে তুলেছে। তবে তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু পর্দার আড়ালের কাহিনি, যা সামনে আসতেই চমকে উঠেছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা।
শুক্রবার সকাল, আমেরিকার স্থানীয় সময়। তখনই নাকি হোয়াইট হাউস হাতে পায় একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা রিপোর্ট, যাতে উল্লেখ করা হয় যে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নাটকীয় মোড় নিতে পারে। এই রিপোর্ট সামনে আসতেই চাপে পড়ে আমেরিকা। সিএনএন-এর দাবি, গোয়েন্দা রিপোর্ট পেতেই ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ফোন করেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। পরে মোদীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করেন ভান্স। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছনো যায়, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় আমেরিকার প্রশাসনিক মহলে। তবে সেই গোয়েন্দা রিপোর্টে ঠিক কী লেখা ছিল, তা এখনও পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি প্রশাসনের তরফে।
তৎকালীন পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। সূত্রের খবর, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে যুদ্ধবিরতির রাস্তা খুঁজতে। মোদীকেও জানানো হয় যে পাকিস্তান এই মুহূর্তে আলোচনায় রাজি হতে পারে। শুধু তাই নয়, যুদ্ধের আশঙ্কা যেন আর না বাড়ে, তা নিশ্চিত করতেই ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ভান্স, মার্কো রুবিও ও হোয়াইট হাউস চিফ অফ স্টাফ সুসি উইলিস একত্রে কাজ শুরু করেন। এই আলোচনার মধ্যে দিয়েই আরও সক্রিয় হয় আমেরিকা।
আরও পড়ুনঃ India pakistan war : বিশ্বাসঘাতক পাকিস্তান! সংঘর্ষ বিরতির পরেই আকাশে ড্রোন, সীমান্তে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা
মোদী-ভান্স ফোনালাপের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শনিবার বিকেলে ভারত ও পাকিস্তান যৌথভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এক্স-এ (সাবেক টুইটার) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান মধ্যস্থতার জন্য। যদিও ভারতের তরফে বিবৃতিতে আমেরিকার কোনও উল্লেখ করা হয়নি। বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী শুধু জানান, দুই দেশ সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, আমেরিকার এই হস্তক্ষেপ না হলে হয়তো সংঘাত সত্যিই অন্য পথে এগোতে পারত।





