কেউ খোঁজ রাখেনি! মেলেনি কোনও চাকরি, জাতীয়স্তরের ফুটবলার হয়েও পেট চালাতে আজ ফলের দোকানের সামান্য কর্মচারী বাঙালি মহিলা

নানান সময় এমন কিছু খবর আমাদের সামনে উঠে আসে, যা শুনে হতবাক হতে বৈ কী! প্রতিভার দাম হয়ত সত্যিই নেই আজ আমাদের সমাজে। প্রতিপত্তি ও প্রভাব থাকলেই হয়ত শুধুমাত্র প্রতিভার দাম মেলে। একজন প্রতিভাকে সম্মান করা, তাঁর প্রাপ্য তাঁকে তুলে দেওয়া, এমন ঘটনা যেন বিরল। আর এভাবেই কত শত প্রতিভা হারিয়ে যান সমাজের বুক থেকে।

জাতীয়স্তরের একজন ফুটবলার যিনি কী না নানান রাজ্যে বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, সেই ফুটবলারের অবস্থা এখন এক ভিখারির থেকেও যেন শোচনীয়। দিন গুজরানের জন্য ১০০, ১৫০ টাকা দিন হিসেবে ফলের দোকানে কাজ করতে হচ্ছে তাঁকে। প্রতিভার সার্টিফিকেটগুলোর উপর যেন আজ ধুলোর আস্তরণ জমা হয়েছে।

হাওড়ার মুন্সীরহাট বাজারে এক ফলের দোকান। সেই ফলের দোকানেরই সামান্য এক কর্মচারী শেফালী চৌধুরী নামের এক মহিলা। অবশ্য সামান্য তিনি নন। তিনি যে অসামান্য তার প্রমাণ তাঁর সার্টিফিকেটগুলোই। একসময়ে জাতীয় স্তরে ফুটবল খেলেছেন এই মহিলা। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে আজ এক ফলের দোকানে কাজ করতে হচ্ছে তাঁকে।

জানা গিয়েছে, মণিপুর, গুয়াহাটি, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো নানান রাজ্যে বাংলাকে প্রতিনিধিত্ব দিয়ে ফুটবল খেলেছেন শেফালী। জিতেছেন নানান মেডেল, সার্টিফিকেট। কিন্তু দিনের শেষে মেলেনি সম্মান। ওই সার্টিফিকেটটুকুই ছাড়। সেই সার্টিফিকেট দিয়ে কোনও চাকরি জোটে নি শেফালীর কপালে। অনেক চেষ্টা করেও একটা চাকরি পান নি তিনি।

বাড়িতে মা-বাবা কেউ নেই। দাদারা থাকলেও সেভাবে তাঁর দায়িত্ব নেওয়া বা দেখাশোনা করেন না। ফলে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের আশায় ফলের দোকানেই চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন শেফালী। কারণ শুধুমাত্র সার্টিফিকেট দিয়ে তো আর পেট চলবে না। কোনওদিন ১৫০ টাকা পান তো কোনওদিন আবার ১০০ টাকা নিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে হয়। ওই দিয়েই কোনওরকমে দিন কাটছে জাতীয় স্তরের ফুটবলারের।

শেফালী জানান, তিনি ইনকাম ট্যাক্সে ৭ বছর ফুটবল খেলেছেন। সেখানে বারবার আর্জি জানানোর পরও একটা চাকরি জোটে নি। অনেক চেষ্টা করেও কাজ পান নি তিনি। সেই কারণেই খানিকটা অভিমান থেকেই ফুটবল আর খেলেন না শেফালী। এই বছর কোনও খেলার জন্য সই করেন নি। কারণ খেলতে গেলে যে ফলের দোকানের কাজটা হাতছাড়া হবে। পরে আর কোথায় কাজ পাবেন তিনি!

মুখে যদিও বলেন, ফুটবলের প্রতি ঘেন্না ধরে গিয়েছে, কিন্তু সত্যিই কী তাই? নিজের ভালোবাসার জিনিসের উপর কী সত্যিই ঘৃণা আসে। এ তো শুধু অভিমানের কথাই। ফুটবলে তাঁর কেরিয়ার হয়ত শেষ, তবে এখনও একটা চাকরির প্রত্যাশায় তিনি। চাকরি না পেলে তাঁকে আত্মঘাতী হতে হবে বলেও আক্ষেপ করে জানালেন শেফালী। একটা ভালো চাকরি পেয়ে জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে পারবেন না বছর ৩৫-এর শেফালী?

RELATED Articles