মুসলিম তরুণী, সাধু, ভিক্ষুক এরপর এবার উত্তরপ্রদেশের অয্যোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য নিজের উপার্জন থেকে ৫০ লক্ষ টাকা দান করল ১১ বছরের বালিকা। গুজরাটের সুরাটের বাসিন্দা ১১ বছরের বালিকা ভাবিকা মাহেশ্বরি রাম ভক্তদের রামকথা শুনিয়ে ওই টাকা উপার্জন করেছিল। আর এবার সেই উপার্জনের টাকাই দান করল রাম মন্দিরের জন্য।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই মুহূর্তে, উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় নির্মিত হচ্ছে হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় মন্দির ‘রাম মন্দির’। বর্তমানে এই মন্দির নির্মাণের জন্য অনুদান গ্রহণ চলছে। ১০,৫০, ১০০০ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আপনি দান করতে পারেন। কিন্তু কোনও সংস্থা বা কর্পোরেট হাউসের থেকে এই মন্দির নির্মাণের জন্য কোনও অর্থ নেওয়া হবে না বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে এই মন্দির নির্মাণের যে কেউই সাহায্য করতে পারে।
রাম মন্দিরের জন্য দান সংগ্রহ অভিযান গত মাস থেকে শুরু হয়েছিল। গোটা দেশ জুড়েই অয্যোধ্যায় রাম মন্দিরের জন্য চাঁদা সংগ্রহ অভিযান চালানো হচ্ছে। ভিক্ষুক থেকে শুরু করে সাধু সবাই হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মন্দির নির্মাণে।
জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার থেকেই বেশি দান সংগ্রহ করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই টাকা উঠেছে ৩০ দিনেরও কম সময়ে।
আর এবার সেই মন্দির নির্মাণেই বিপুল অর্থ সাহায্য করল এই বালিকা।
গত বছর মার্চ মাসে করোনা মহামারীর কারণে গোটা দেশে লকডাউন জারি হয়েছিল। লকডাউনের ফলে দেশের অফিস, কাছারি থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ সব কিছুই বন্ধ ছিল। লকডাউনে স্কুল যেতে না পারায় সে বাড়িতে বসে বসে ভক্তদের রামকথা শোনাত। ভাবিকা মাহেশ্বরির পরিবার জানায়, ভক্তদের রামকথা শোনাতে শোনাতে ভগবান শ্রী রামের মহত্ব জানতে পারে ভাবিকা। আর এরপরই সে ঠিক করে ভগবান রামের নব নির্মিত মন্দিরের জন্য সে কিছু না কিছু করবে।
আর যেমন ভাবা তেমন কাজ। রাম মন্দির নির্মাণের জন্য কিছু করার সংকল্প নিয়ে অর্থ সংগ্রহ অভিযান শুরু করে ভাবিকা। অয্যোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য যেই তহবিল গঠন করা হয়েছে, সেখানে তাঁর সংগ্রহের ৫০ লক্ষ টাকা দান করে ভাবিকা।
১১ বছরের এই বালিকা জানায়, তাঁর পরিবারের সদস্য বাবা-মা, ঠাকুমা-ঠাকুরদা তাঁকে রামকথা শোনাতে আর রাম মন্দিরের জন্য অর্থ সংগ্রহ করার জন্য উৎসাহ দিয়েছে।
কি বলছে ভাবিকা মাহেশ্বরির পরিবার? এই বালিকার বাবা রাজেশবাবু জানান, ‘দেশের বহু মানুষ অয্যোধ্যায় শ্রী রাম মন্দিরের জন্য নিজের সাধ্যমত যোগদান করেছেন। আমার মেয়ে রামকথা শুনিয়ে যেই অর্থ উপার্জন করেছিল, সেটি পুরোটাই রাম মন্দির তহবিলে দান করেছে। আর এতে আমি অত্যন্ত গর্ববোধ করছি।”





