গত সোমবার আসামের শিলচরে এক বাচ্চা মেয়েকে শ্লীলতাহানি করার অপরাধে এক মৌলবিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, বাচ্চা মেয়েটি অভিযুক্তের কাছে ধর্মীয় শিক্ষা নিতে গিয়েছিল। এই সময়ই তার সঙ্গে ঘৃণ্য ব্যবহার করে ওই মৌলবি। গত ডিসেম্বর মাসে ওই মৌলবির নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করে বাচ্চা মেয়েটির পরিবার।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম সামসুদ্দিন বারাভুইয়ান। এই ঘটনার পর প্রায় দু’মাস পলাতক ছিল ওই মৌলবি। তাঁর নামে অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই পলাতক সে। কিন্তু পাঁচগড়ি লেনে তার বাড়ির উপর নজর রেখেছিল পুলিশ। গত রবিবার ওই মৌলবি তার বাড়িতে আসে। এরপর সোমবার তাকে আটক করে পুলিশ।
বাচ্চা মেয়েটির মা গত ৬ই ডিসেম্বর সামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে তাঁর মেয়েকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে থানায় অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগ, মৌলবি সামসুদ্দিন ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার সময় তাঁর মেয়ের শ্লীলতাহানি করে। তাঁর কথায়, এই ঘটনা যখন ঘরে, তখন তাঁর মেয়ের বয়স ছিল ৬ বছর। স্কুলগত শিখার বাইরেও তিনি তাঁর মেয়েকে ধর্মীয় পাঠ পড়াতে চেয়েছিলেন। এই কারণেই তাঁর ভাইয়ের পরিচিত সামসুদ্দিন বারাভুইয়ানের কাছে ধর্মীয় শিক্ষা নেওয়ার কথা ভাবেন তিনি।
জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন নিজের ভাইয়ের বাড়িতে মেয়েক নিয়ে যান ওই মহিলা। সেখানেই অভিযুক্ত মৌলবিও আসেন। একটি ঘরে বাচ্চাটিকে মৌলবির সঙ্গে ছেড়ে দেন তাঁর মা ধর্মীয় শিক্ষা নেওয়ার জন্য। অন্য একটি ঘরে পরিবারের বাকী সদস্যেরা ছিলেন। কিন্তু হঠাৎই বাচ্চাটি কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। তাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে সে বলে ওই মৌলবি তার গোপনাঙ্গে হাত দিয়েছে। এরপরই পরিবারের সদস্যরা ওই মৌলবিকে ধরতে গেলে ততক্ষণে সেখান থেকে পালায় সে। এরপর নিজের মোবাইলও বন্ধ করে রাখে।
বাচ্চাটির মা জানান, তাঁর পরিবারের কিছু লোক তাঁকে কোনও অভিযোগ দায়েত করতে বারণ করলেও কিছু লোক আবার তাঁকে সমর্থনও করেন। এরপরই তিনি ওই মৌলবির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর প্রায় দু’মাস গা ঢাকা দেওয়ার পর গত সোমবার গ্রেফতার হয় ওই মৌলবি।





