কেরালায় হাতি খুনের ঘটনায় যুক্ত রবার চাষী গ্রেপ্তার, জেরায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

কেরালার নৃশংসতার ছবি এখন সারা দেশের হাতে হাতে ঘুরছে। হাতি খুনের ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে কেরালার পুলিশ এবং বনদপ্তর। সেই তদন্তেই এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কেরালার বনমন্ত্রী কে রাজু জানিয়েছেন, ‘আজ একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে আরও অনেকে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের খোঁজে নেমেছে পুলিশ।’

মান্নারক্কাদ ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার সুনীল কুমার জানিয়েছেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি জেরায় জানিয়েছে, আনারস নয় নারকেলের মধ্যে বাজি পুড়ে হাতিটিকে খেতে দেওয়া হয়েছিল। নারকেলের মধ্যে এই বাজি ভর্তি করার কাজে সেও যুক্ত ছিল। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত আরও দু’জন জড়িত রয়েছে বলে স্বীকার করে সে। তাঁদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ফরেস্ট অফিসার আশিকি আলি ইউ জানিয়েছেন, অভিযুক্তের নাম উইলসন। ৪০ বছরের ওই ব্যক্তি পেশায় একজন রবার চাষী। জেরাতে সে জানিয়েছে, গ্রামের মধ্যে বুনো শুয়োর ও অন্যান্য পশুরা ঢুকে পড়ে চাষের অনেক ক্ষতি করে। তা থেকে বাঁচতে ফলের মধ্যে বোমা রেখে দেওয়া হয়। সেইরকমই নারকেলের মধ্যে বাজি ভরে রেখে দেওয়া হয়েছিল। মানুষের চরম নৃশংসতার শিকার হতে হল এক সন্তানসম্ভবা হাতিকে। বাজি সমেত নারকেল খাওয়ার ফলে তার মুখের ভিতর আচমকাই বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর সেই বাজি ফাটার অসহ্য যন্ত্রনায় ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে সে।

হাতিটার কপালে হয়তো দগ্ধে দগ্ধে মৃত্যুর যন্ত্রণাই লেখা ছিল। তাই বাজি ফাটার যন্ত্রনা নিয়ে সে আরও ১৪ দিন বেঁচেছিল। কেরালার ৬ মাসের গর্ভবতী হাতি তার ঝলসে যাওয়া মুখ-গলা নিয়ে ভেল্লিয়ার নদীতে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, যাতে তার যন্ত্রনা একটু লাঘব হয়। প্রচণ্ড যন্ত্রনা সহ্য করেও দিনের পর দিন অনড় ছিল সে। কেরালার পালাক্কাড়ে ওই গর্ভবতী হাতির ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। মুখের ভেতরে বাজি ফাটার কারণে তার মুখ-গলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এমনকি তার ফুসফুসও ঠিক করে কাজ করছিল না। জল ঢুকতে ঢুকতে ফুসফুস কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে শ্বাসকষ্টতেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। এই ১৪ দিন একফোঁটা খাবার বা জল মুখে তোলেনি হাতিটি। মানুষের নৃশংসতার মাশুল স্বরূপ নির্বিবাদে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করল সে।

RELATED Articles

Leave a Comment