করোনাকে হারাতে প্লাজমা থেরাপির ক্লিনিক্যাল টেস্ট শুরু এবার এইমস-এ

করোনার মোকাবিলার জন্য বিশেষজ্ঞরা অনবরত মেহনত করেই চলেছেন। বেশ কিছুদিন ধরেই এই মারণ ভাইরাসের লড়াইয়ে উঠে আসছে প্লাজমা থেরাপির নাম। এবার মানুষের জীবন বাঁচাতে প্লাজমা থেরাপির ক্লিনিকাল পরীক্ষা শুরু করার কথা জানাল অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সস (এইমস)। এই প্রক্রিয়ার অনুমতি চেয়ে ইতিমধ্যেই ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)-কে আবেদনপত্র পাঠিয়েছেন তারা।

এইমসের ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া জানান, কোভিড-১৯ সংক্রমণের চিকিৎসা পদ্ধতি এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। এখনো নানান ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এই ভাইরাসের ওপর। সেখানে এই প্লাজমা থেরাপির উপকারিতা কতটা তা যাচাই করার আগে এবং তা রোগীদের নিয়মিত ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করার পূর্বে ভালভাবে সু-পরিচালিত গবেষণামূলক পরীক্ষার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “বর্তমানে আইসিএমআর-এর সঙ্গে কাজ করছে এইমস। সেখানে কনভ্লাসেন্ট প্লাজমা থেরাপির কার্যক্ষমতা যাচাই করতেই ক্লিনিকাল ট্রায়াল পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের উচিত আইসিএমআর ও ডিসিজিআই-এর থেকে অনুমতি নিয়ে এবং যথাযথ ভাবে ক্লিনিকাল নিয়মাবলি মেনে গবেষণা চালানো। “

প্রসঙ্গত, এই প্লাজমা থেরাপিতে সুস্থ হয়ে ওঠা করোনা সংক্রামিত রোগীর শরীরের রক্ত থেকে প্লাজমা সংগ্ৰহ করে বর্তমানে আক্রান্তের শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এখানে ধরে নেওয়া হয়, সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির প্লাজমায় এই সংক্রমণের মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, যা আক্রান্তের শরীরের রক্তে মিশে গিয়ে সেখানেও নতুন অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে।

তবে, গুলেরিয়ার মতে, এক্ষেত্রে অনেক সতর্কতা মেনে চলতে হবে। তাঁর মতে, যথাযথ পরীক্ষা না করে, কোনও সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তির প্লাজমা আক্রান্তের শরীরে প্রবেশ করালে বিপদ হয়ে যাবে। কারণ, তাতে গ্রহীতার শরীরে বিভিন্ন ধরেনর প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

RELATED Articles

Leave a Comment