নিজামুদ্দিনের ঘটনার জেরে প্রশ্ন উঠছে দিল্লি পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দক্ষতার ওপর

করোনার সতর্কতার মধ্যে নিজামুদ্দিন বাংলেওয়ালি মসজিদের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে দিল্লি পুলিশ। মার্চ মাসে মসজিদ চত্বরের জমায়েত নিয়ে এখন কেন মুখ খুলছে তারা? সেখান থেকে ফিরে গিয়ে মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং কিছু মানুষ মারা গেছেন বলেই কী মুখ খুলছে দিল্লি প্রশাসন? সব জানা সত্ত্বেও ওই জমায়েতে উপস্থিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না-নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধেও।

গত দেড় দিনে নিজামুদ্দিন এলাকা থেকে ২৩৬১ জনকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় ভর্তি করা হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতাল বা আইসোলেশন সেন্টারে। সম্প্রতি রাজধানীতে গোষ্ঠী সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ হয়েছিল দিল্লি পুলিশ। এক মাসের মধ্যে আবার নিজামুদ্দিনের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে।

নিজামুদ্দিন এলাকায় বাংলেওয়ালি মসজিদ ও নিজামুদ্দিন থানার কার্যত একই দেওয়াল। তা সত্ত্বেও মসজিদে দু’হাজারের বেশি লোকের জমায়েতের বিষয় নাকী পুলিশের কাছে কোনো তথ্য ছিল না! অন্যদিকে মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, কত লোক উপস্থিত হতে পারেন, সেই বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্য তাঁরা জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট থানাকে। এরপর বিজেপি ও দিল্লি পুলিশের তরফে পাল্টা ভিডিয়ো প্রচার করে দাবি করা হয় যে তারা মসজিদের প্রতিনিধিদের ডেকে লকডাউনের পরেই একটি বৈঠক করেছিলেন, এবং তাতে সেই চত্বর খালি করে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিল পুলিশ।

কিন্তু মসজিদের প্রতিনিধিদলের তরফে জানানো হয়, লকডাউনের ফলে গণপরিবহন স্থগিত তাই অন্য প্রদেশ থেকে আসা লোকেরা কোথায় যাবেন? তখন দিল্লি পুলিশ ওই দলকে স্থানীয় এসডিএমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে।

দিল্লি পুলিশের এক অংশের দাবি, জনতা কার্ফুর পরের দিনই ১৮০০ জনের একটি দলকে স্টেশনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ট্রেন না-পাওয়ায় ওই দলের অধিকাংশই নিজামুদ্দিন এলাকায় ফিরে আসেন। তাদের কে কেন সেই গাদাগাদিতেই ফিরতে হলো যেখানে জমায়েত এড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তাদের জন্য নয় ব্যবস্থা কেন করা হয়নি ? দিল্লির প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকার কোনো পদক্ষেপ কেন নেন নি তার বিষয়ে সবাই নিরুত্তর।

গত শনি-রবিবার তেলঙ্গানায় করোনা সংক্রমণে মৃত ছ’জনের ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন এটা জানার পরই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। অভিযোগ উঠেছে, মসজিদ সংলগ্ন আবাসন থেকে ওই দু’হাজার লোককে বুঝিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নেও ব্যর্থ হয় দিল্লি পুলিশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্রের খবর, ‘শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে’ তখন আসরে নামেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। তাঁর সঙ্গে বৈঠক হয় তবলিগ-ই-জামাতের সঙ্গে যুক্ত কর্তাদের। তারপর তারা হাসপাতালে যেতে রাজি হন ওই বাসিন্দারা। আজ মসজিদ-সহ গোটা এলাকা জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে গোষ্ঠী সংঘর্ষ থামাতেও মাঠে নামতে হয়েছিল অজিত ডোভালকে। ফলে সব মিলিয়ে বারংবার প্রশ্নের মুখে দিল্লি পুলিশের দক্ষতা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের কার্যকারিতা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। এখন চাপে পড়ে দিল্লি পুলিশ ওই মসজিদের সঙ্গে যুক্ত ধর্মপ্রচারক-সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে গত কাল ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করে।

কংগ্রেস মুখপাত্র জয়বীর শেরগিল আজ বলেন, ‘‘ওই মৌলানা ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে। আবার পুলিশ বলছে, তিনি নিখোঁজ। বিষয়টা যেন ভীষণই রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।”

দিল্লি পুলিশের এহেন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ক্ষোভে পুষছেন সাধারণ মানুষ থেকে বিরোধী পক্ষ। প্রশ্নের মুখে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (দিল্লি পুলিশ তাদের আওতায়) ভূমিকাও। তাহলে কি এর আগে সরকার এই মারণ ভাইরাস বিষয়ে সতর্ক ছিলেন? এত মানুষের প্রাণহানী কি তাদের হুঁশ ফিরিয়েছে? আগে থেকে কড়া পদক্ষেপ নিলেই কী এই নিজামুদ্দিন এর ঘটনা এড়ানো যেত? সব কিছু জেনেও কেন এই হাল হলো? এইসব প্রশ্নের মুখে নিরুত্তর রয়েছেন দিল্লি প্রশাসন ও পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।।

RELATED Articles

Leave a Comment