করোনা সংক্রমন রোধ করতে প্রথম দফার লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল ২৪শে মার্চ মধ্যরাত থেকে ১৪ই এপিল পর্যন্ত। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সংক্রমনের হার বাড়তেই থাকে। তাই প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেন যে, এই লকডাউনের সীমা আরও বাড়াতে হবে। এই লকডাউনের মধ্যে সমস্ত গণপরিবহনও বন্ধ থাকবে।
কিন্তু এরই মাঝে “বাড়ি ফিরতে শ্রমিকরা বান্দ্রা স্টেশনে জড়ো হও” বলে ডাক দেন মুম্বইয়ের এক ব্যক্তি। একাধিক পোস্টের মাধ্যমে শ্রমিকদের একত্রিত করেন ওই ব্যক্তি। এত মানুষের জমায়েত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে বিনয় দুবে নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে মুম্বই পুলিশ।
‘চল ঘর কি ওর’ (বাড়ির দিকে চলো) স্লোগান দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক ভিডিয়ো, লেখা ও ছবি পোস্ট করেন ওই ব্যক্তি। এমনই এক ভিডিয়োতে তাকে বলতে দেখা যায়, “১৪ এপ্রিল লকডাউন শেষ হলেই আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেব। আমি অনুরোধ করছি উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের সরকার যেন বান্দ্রা থেকে ট্রেনের আয়োজন করে।”
লকডাউনে অন্য রাজ্যের শ্রমিকদের অবস্থা খুবই শোচনীয় বলে জানান তিনি। “এখানে যা পরিস্থিতি, করোনায় বেঁচে গেলে না খেয়ে মরবো।”, এই কথাও সবার সামনে তিনি তুলে ধরেন। এর পরেই সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিনয় জানান, “১৪ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ট্রেনের বন্দোবস্ত না হলে আমরা হেঁটে বাড়ি ফেরা শুরু করব।”
বিনয়ের কথা মেনেই বান্দ্রা স্টেশনে এসে মঙ্গলবার জড়ো হয় শ্রমিকরা। মুম্বইয়ের বাসিন্দা বিনয়ের উত্তর ভারতীয় মহা পঞ্চায়েত নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আছে। মূলত শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকার জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বেশ কিছু ভিডিয়ো-এ তিনি বলেন, “হয় সবাই মিলে বাড়ির দিকে রওনা দাও নয় তো এখানে মরো”। মঙ্গলবার রাতেই তাঁকে নবি মুম্বই থেকে গ্রেফতার করে স্থানীয় থানার পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বান্দ্রায় জমায়েতে প্রায় ১,০০০ জনকে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশ।





