দেশের এক বিরাট অংশের মানুষ যখন আনন্দে মেতে থাকে, নানান আমোদ-প্রমোদে জীবন কাটায়, ঠিক সেই সময়ই ভারতীয় জওয়ানরা দেশের সীমান্তে দাঁড়িয়ে দেশকে রক্ষা করে যায় যাতে দেশের মানুষ শান্তিতে ঘুমোতে পারে। কিন্তু তাদেরকে নিয়েই সেভাবে কোনও খবর চোখে পড়ে না যদি না কোনও হামলা বা যুদ্ধ বাঁধে।
নানান আকর্ষণীয় খবর মানুষের সামনে তুলে ধরতে যখন মিডিয়া ব্যস্ত, সেই সময় এই ভারতীয় সেনাদের জীবনেও নানান ঘটনা ঘটে যায় যা হয়ত মানুষ জানতেও পারে না। সেরকমই একটি ঘটনা সামনে এল এবার।
উত্তরপ্রদেশের এটাহ জেলার এক বাসিন্দা অরবিন্দ চৌহান। সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে সাম্প্রতিককালে কাশ্মীরে মোতায়েন ছিলেন। সেই জওয়ানই সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের মধ্যেই আত্মহত্যা করেন। আর সেই খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রীও আত্মঘাতী হন।
আরও পড়ুন- পিছু হটছে তালিবানরা, আফগানিস্তানের তিন জেলা মুক্ত তালিবানি শাসন থেকে, উড়ল আফগানি পতাকা
জানা গিয়েছে ২০১৯ সালের ২৯শে জানুয়ারি বিয়ে হয় অরবিন্দ ও আরতির। বিয়ের প্রথমের দিকে সুখে শান্তিতে থাকলেও, পরবর্তীকালে তাদের পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। একদিকে দেশরক্ষার দায়িত্ব আর অন্যদিকে সংসারে এই অশান্তি। সব মিলিয়ে নানাভাবে জর্জরিত হয়েছিলেন অরবিন্দ। শেষ পর্যন্ত আর সামলাতে না পেরে গত ৬ই আগস্ট আর্মি ক্যাম্পেই আত্মহত্যা করেন তিনি।
তাঁর মৃতদেহ দেখার পর আর্মি ক্যাম্পে শোকের ছায়া নেমে আসে। গত ১০ই আগস্ট অরবিন্দের মৃতদেহ আনা হয় তাঁর বাড়িতে। সেই সময় তাঁর স্ত্রী নিজের বাপের বাড়িতে ছিলেন। স্বামীর মৃতদেহ আসার খবর পেয়ে তিনি তাঁকে দেখতে গেলে অরবিন্দের পরিবারের তরফে তাঁকে দেখতে দেওয়া হয় না তাঁর স্বামীকে। অরবিন্দের পরিবারের দাবী, ওই স্ত্রীয়ের জন্যই তাদের ছেলের এই পরিণতি। এই ঘটনার জেরে ভেঙে পড়েন আরতি। অবশেষে স্বামীর মৃত্যুর ৬ দিন পর নিজের বাপের বাড়িতেই গলায় শাড়ির ফাঁস লাগিয়ে তিনিও আত্মঘাতী হন।





