পিছু হটছে তালিবানরা, আফগানিস্তানের তিন জেলা মুক্ত তালিবানি শাসন থেকে, উড়ল আফগানি পতাকা

গত একমাস ধরে আফগানিস্তানে রীতিমতো আগুন জ্বলছিল। সেদেশে ঢুকে পড়ে তালিবানরা। নানান সাংবাদিক, কমেডিয়ান, নেতা, সরকারি আধিকারিক, সেনাদের হত্যা করছিল তারা। একে একে নানান প্রদেশ জয়ের পর গত রবিবার কাবুল জয়ের মাধ্যমে কার্যত গোটা আফগানিস্তানেই ক্ষমতা কায়েম করেছিল তালিবানরা।

এর জেরে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সেখানকার মানুষ। তালিবান সরকার গড়লে সেদেশের মানুষদের, বিশেষত মহিলাদের পরিণতি কী হবে, তা ভেবেই রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে আফগানবাসীদের। দেশ ছেড়ে পালাতে চাইছে সে দেশের মানুষ। কাবুল তালিবানদের দখলে চলে যাওয়ার পরই রাষ্ট্রপতি আশরফ ঘানিও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

এসবের পর আফগানিরা ভেবেই নিয়েছিল যে যুদ্ধ হয়ত শেষ। আর কিছু করার নেই। কিন্তু থক সেই সময়ই আফগানিস্তানের উপরাষ্ট্রপতি আমরুল্লাহ সালেহ’র উদয় হয়। তিনি নিজেকে দেশের রাষ্ট্রপতি বলে ঘোষণা করেন ও তালিবানদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখার বার্তা দেন। ১০হাজার সেনা ও গোটা দেশের দায়িত্ব নিয়ে তালিবানদের বিরুদ্ধে লড়াই চালান সালেহ।

আরও পড়ুন- আফগানিস্তানের রাস্তায় বন্দুক হাতে শক্তি প্রদর্শন তালিবানের, উঠে এল ধর্মীয় স্লোগানও

আফগান মিডিয়া সূত্রে খবর, সালেহ’র নেতৃত্বে আফগানিস্তান সেনা প স্থানীয় মানুষ তিনটি জেলাকে তালিবানদের দখল থেকে মুক্ত কত্রতে পেরেছে। পোল-ই-ইসার, বগলান প্রান্তের বানু, ও দেহ-ই-সলাহ জেলায় এখন আফগানি পতাকা উড়ছে। দুই পক্ষের লড়াইয়ের পর পিছু হটতে বাধ্য হয় তালিবানরা। এই লড়াইয়ে তালিবানদের ৬০ জন সেনা খতম হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বলে রাখি, এর আগে সালেহ’র নেতৃত্বে আফগান সেনা পঞ্জশির এলাকা তালিবানদের ক্ষমতা থেকে দখল মুক্ত করিয়েছিল। তালিবানদের বিরুদ্ধে সালেহ’র এই লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা বিশ্ব। কিন্তু তাদের পাশে কেউ নেই। এই অল্প সংখ্যক সেনা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে সালেহ আদৌ কতটা লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে, এ নিয়ে সংশয়ও রয়েছে প্রবল।

RELATED Articles