গত ২২ জানুয়ারি গোটা বিশ্ব সাক্ষী থেকেছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে রামলালার। ৫০০ বছরের বনবাস কাটিয়ে নিজের জন্মভূমিতে ফিরেছেন তিনি। ৫ বছরের বালকের ন্যায় সেই রাম মূর্তি স্থান পেয়েছে রামমন্দিরের গর্ভগৃহে। কৃষ্ণ শিলার সেই মূর্তি দেখে অভিভূত ভক্তরা। সত্যিই যেন ছোট্ট রামচন্দ্র অধিষ্ঠান করছেন মন্দিরে।
এই মূর্তি তৈরি করেছেন কর্ণাটকের শিল্পী অরুণ যোগীরাজ। রামের এমন রূপ, এমন সৌন্দর্য কীভাবে মূর্তির মধ্যে ফুটিয়ে তুললেন তিনি, এমন প্রশ্ন রয়েছে সকলের মনেই। শিল্পীর কথায়, রামলালার মুখ কেমন হবে, তা নিয়ে তিনি বেশ চিন্তার মধ্যে ছিলেন। মূর্তির মধ্যে শিশুসুলভ অভিব্যক্তি তৈরি করা বেশ কঠিন কাজ ছিল তাঁর পক্ষে।
কীভাবে সম্ভব হল রামলালার মুখ গঠন?
অরুণ যোগীরাজ জানাচ্ছেন, গত বছর দীপাবলির সময় তিনি অয্যোধ্যায় গিয়েছিলেন। সেই সময়ই এক অদ্ভুত ভাবনা তাঁকে দিশা দেখায়। তিনি জানান, সেখানে সেই সময় কয়েকজন শিশুকে দেখেছিলেন তিনি। অয্যোধ্যায় দেখা সেই শিশুগুলির মুখ ভালোভাবে নিরীক্ষণ করেই তিনি পাথরে ফুটিয়ে তোলেন রামলালার মুখ।
মুখ তো হল, কিন্তু রামলালার চোখ ফুটিয়ে তোলা ছিল সবথেকে কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ রামচন্দ্রের মতো ওমন মায়ামাখা, মিষ্টি চোখের ভাষা পাথরে ফুটিয়ে তোলা সহজ নয় একেবারেই। অরুণ যোগীরাজ জানান, তাঁর হাতে মাত্র ২০ মিনিট সময় ছিল। কারণ সেই ২০ মিনিটই ছিল শুভ সময়। সেই সময়ের মধ্যেই শ্রীরামের চক্ষুদান করতে হত তাঁকে। আর অবিশ্বাস্যভাবে সেই ২০ মিনিটের মধ্যে চোখ মেলেছিলেন রামলালা। অলৌকিক মনে হলেও, সেই ২০ মিনিটের মধ্যেই রামলালার চোখ ফুটে উঠেছিল।
রামলালার মূর্তি তৈরি করার সময়কালের নানান অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন যোগীরাজ। মূর্তি বানানোর সময়টায় তিনি রাতে মাঝেমধ্যেই জেগে উঠে বসতেন। তাঁর মনে হত, রামলালা যেন তাঁকে ডাকছে। এমনকি, প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর যোগীরাজ বলেছিলেন যে এ জেন তাঁর বানানো মূর্তিই নয়। প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর রামলালার মূর্তি যেন বদলে গিয়েছে।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার