আবগারি দুর্নীতি মামলায় ফের তিহাড় যাত্রা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। তাঁর অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন গৃহীত হয়নি সুপ্রিম কোর্টে। ফলে আগামীকাল, রবিবারই ফের তিহাড় জেলে আত্মসমর্পণ করছেন কেজরিওয়াল। নিজেই জানালেন সেই কথা।
আজ, শনিবার অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফলত আগামীকাল, রবিবার তিহাড় যাত্রা রয়েছে তাঁর। আজ, শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে কেজরিওয়াল জানান, “আত্মসমর্পণ করতে রবিবার দুপুর ৩টেয় বাড়ি থেকে বেরোব আমি। স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছি আমরা। দেশের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিতে হলে, দুঃখ থাকবে না। দেশকে বাঁচাতে নিজের জীবন দিতেও রাজি আমি। সশরীরে আপনাদের মাঝে যদিও থাকব না, কিন্তু চিন্তার কারণ নেই। আপনাদের জন্য সরকারি কাজকর্ম অব্যাহত থাকবে”।
আবগারি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর ভোটের কারণে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর সেই জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কারণ হিসেবে দর্শিয়েছিলেন শারীরিক অসুস্থতা। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় প্রথমে জানিয়েছিলেন বটে তিনি এই বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু কেজরিওয়ালের আবেদন গ্রহণ করেন নি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার। ফলে তাঁর অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ শেষ হতেই ফের তিহাড় যাত্রার প্রস্তুতি শুরু দিল্লি মুখ্যমন্ত্রীর।
এর আগে ৫০ দিন জেলে ছিলেন কেজরিওয়াল। এই সময়ের মধ্যে তাঁর স্বাস্থ্যের বেশ অবনতি হয়েছে বলে জানান তিনি। ওজন অনেকটা কমে গিয়েছে। ডায়াবেটিসের রোগী তিনি। কিন্তু জেলে ঠিকঠাক ওষুধ পান নি বলে দাবী করেন তিনি। তিনি এও জানান, তাঁকে চিকিৎসকরা কিছু শারীরিক পরীক্ষা করাতে বলেছেন, সেই কারণেই অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তা গৃহীত হল না।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানান, “৫০ দিন জেলে বন্দি ছিলাম। ওই ৫০ দিনে ছয় কেজি ওজন কমেছে আমার। জেল থেকে বেরনোর পরও সেই ওজনের ঘাটতি পূরণ হয়নি। চিকিৎসকরা আমার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমার মা-বাবা বার্ধক্যে পৌঁছেছেন। আপনারা প্রার্থনা করলে আমার মা নিশ্চয়ই সুস্থ থাকবেন। আপনাদের পরিবারের সন্তান হিসেবের বরাবর নিজের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার মা-বাবার খেয়াল রাখতে আর্জি জানাচ্ছি আপনাদের”।
বলে রাখি, আবগারি দুর্নীতি মামলায় গত ১২ মার্চ অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করে ইডি। দিল্লির আবগারি নীতিতে যে নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে, তাতে কিছু ব্যবসায়ীকে সুবিধা পাইয়ে দিয়ে তাদের থেকে মোটা টাকা আদায় করেছেন কেজরিওয়াল ও তাঁর দল আম আদমি পার্টি, এমনটাই অভিযোগ ওঠে। প্রায় ১০০ কোটি টাকা নিজের দলে ঢুকিয়েছেন তিনি, এমনটাই দাবী। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে আপ প্রধান দাবী করেছিলেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে তাদের।





