কোভিড মহামারির ভয়াবহতা গোটা বিশ্ব এখনো ভুলতে পারেনি। কোভিডের হাত থেকে বাঁচতে সেবার খবর পাওয়া গেছিল ভ্যাকসিনের। ভারতের জনগণকে কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন (Covaxin) দুটি টিকা দেওয়া শুরু হয়। অধিকাংশ মানুষই অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা নিয়েছিলেন, যা ভারতে কোভিশিল্ড নামে বানিয়েছে সিরাম ইন্সটিটিউট। কোভিড মহামারির ভয়াবহতা কেটে গেছে বহুদিন। প্রায় দু থেকে তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে। এখন অ্যাস্ট্রজেনেকা স্বীকার করেছে, তাঁদের ভ্যাকসিন থেকে বিরল সাইড এফেক্ট হতে পারে। এই খবর প্রকাশ্যে আসো মাত্রই তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে গোটা দেশে। এমন সময় কোভ্যাক্সিন কর্তৃপক্ষের তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
কোভ্যাক্সিন কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ কোভ্যাক্সিন টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থা বায়োটেক এর তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, ‘আমাদের ভ্যাকসিনে কোনও সাইড এফেক্ট নেই। প্রথমে নিরাপত্তা এবং তারপর কার্যকারিতার উপর ফোকাস করেই কোভ্যাক্সিন (Covaxin)বানানো হয়েছিল।’
কোভ্যাক্সিন টিকা (Covaxin) প্রস্তুতকারী সংস্থা ভারত বায়োটেক-এর তরফে এই বিবৃতি জারি করা হয়েছে এক্স হ্যান্ডেলে। সেই পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, কোভিডের টিকাদান কর্মসূচিতে কোভ্যাক্সিনই (Covaxin) একমাত্র ভ্যাকসিন যা ভারতে কার্যকারিতার পরীক্ষা চালিয়েছিল। বায়োটেক স্পষ্ট দাবি করেছে তাদের ভ্যাকসিন নিয়ে কোনরকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার রিপোর্ট এখনও পর্যন্ত নেই। সুতরাং ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।
সূত্রের খবর, কোভিশিল্ড টিকা যারা নিয়েছেন তাদের অনেকের থ্রম্বোসিসের সঙ্গেই থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সিনড্রোম দেখা দিয়েছে। সোজা ভাষায় বলতে গেলে কোভিশিল্ড টিকা যারা নিয়েছেন সেই সব ব্যক্তিদের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করেছে এমনকি প্লেটলেটের সংখ্যাও দ্রুত কমে যাচ্ছে। এমনকি এই বিরল রোগে মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।
এতদিন ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থা এই ব্যাপারে কোন কথাই বলেননি। এমনকি কোন স্বীকারোক্তি দেয়নি তারা। তবে সম্প্রতি ব্রিটেন আদালতে তারা স্বীকার করে যে, তাদের ভ্যাকসিন থেকে এমনটা হলেও হতে পারে। তবে সেটা খুবই বিরল ঘটনা। কোভিশিল্ড টিকা নেওয়া কি বিরল রোগ হতে পারে ভারতীয়দের অনেকের মনে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, ১০ লাখের মধ্যে একজনের এই ভ্যাকসিনের কারণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ এই ভ্যাকসিন নেওয়া সব ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে করবেন না, বড় সংখ্যক মানুষজন এই ভ্যাকসিনের ডোজ থেকে সুরক্ষিত। বিশেষজ্ঞরা এও দাবি করেছেন যে একটি ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সর্বোচ্চ ৬ মাস পর স্পষ্ট ভাবে বোঝা যায়। তবে ভ্যাকসিন পাওয়ার দু আড়াই বছর কেটে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। তাই এই টিকা থেকে মারাত্মক ঝুঁকি নেই।





