দিল্লি থেকে কলকাতায় পিকে কী করে আসলেন? খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের চাপানউতোর চলছেই। এরমধ্যেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পরিদর্শনে আসা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে তড়িঘড়ি ডেকে পাঠিয়েছিলেন তৃণমূলের ভোট স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরকে। শোনা যাচ্ছে, লকডাউনের মধ্যেও কার্গো বিমানে কলকাতায় এসেছেন তিনি। এই খবরের সত্যতা যাচাই করতে এবার তিনটি বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থার সূত্রানুযায়ী, কলকাতা, দিল্লি ও গুয়াহাটি-এই তিনটি শহরের বিমানবন্দরের গত তিনদিনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তিন বিমানবন্দর থেকে শেষ ৭২ ঘন্টায় মোট ন’টি কার্গো বিমান (পণ্যবাহী বিমান) দিল্লি থেকে কলকাতায় এসেছিল। ওই বিমানগুলো স্পাইস জেট, এয়ার ইন্ডিয়া ও ব্লু ডার্ট-এর ছিল। ওই বিমানে প্রশান্ত কিশোর কলকাতায় এসেছে কিনা সেটাই দেখছে কেন্দ্র। কারণ কেন্দ্রের কাছে এই ঘটনাই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গিয়েছে, লকডাউনে দিল্লিতেই ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। সামনেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সূত্রের খবর, ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ পিকে-কে জরুরি তলব করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর ডাক পেয়েই কলকাতায় আসেন প্রশান্ত কিশোর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। করোনা পরিস্থিতিতে বিজেপির আক্রমণ প্রতিহত করার রণকৌশল নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে দুজনের মধ্যে। এই ঘটনাই রক্তচাপ একধাপ বাড়িয়েছে শাসকদলের।

জেডিইউ নেতা অজয় অলোক বলেছেন, “প্রশান্ত কিশোরের লজ্জা হওয়া উচিৎ। লকডাউনের নিয়ম লঙ্ঘন করে তিনি দিল্লী থেকে কলকাতা চলে গেছেন। কার্গো বিমানে জরুরি বস্তু যায়, পিকে কী করে ওই বিমানে চলে গেলো?” বিহারের বিজেপির মুখপাত্র নিখিল আনন্দ বলেছেন, “প্রশান্ত কিশোর সরকারি অফিসার নন, বিমানের ক্রু মেম্বার নন, চিকিৎসকও নন, তাহলে কার অনুমতিতে লকডাউনে উনি কলকাতায় গেলেন? কেন এটাকে বেআইনি কাজ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না?”

এই ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও সমালোচনা করেছেন বিহারের বিজেপির মুখপাত্র। যদিও হিন্দুস্থান টাইমসে ফোনে প্রশান্ত কিশোর জানিয়েছেন, “১৯শে মার্চের পর আমি কোনও বিমানবন্দরেই যাইনি। কিন্তু কারোর কাছে যদি এমন কোনও তথ্য থাকে যা এর বিপরীত, তার উচিত এই সময়ই সেটা জনসমক্ষে আনা।” তিনি সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে বলেছেন, “নিখিল আনন্দ যেটা বলছেন সেটা উনি প্রমান করুন। আমি কোন বিমানে গেছি, তার সব বিস্তারিত তথ্য দিন। যদি উনি সব দিতে পারেন তাহলে পাবলিক লাইফ থেকে আমি অবসর নেব। আর যদি না পারেন তাহলে ক্ষমা চাইতে হবে।”

RELATED Articles

Leave a Comment