দেশজুড়ে ব্যাপক হারে আধিপত্য বিস্তার করেছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এরই মধ্যে নানান রাজ্যে দেখা দিয়েছে অক্সিজেনের ঘাটতি। সেই ঘাটতি মেটাতে মরিয়া কেন্দ্র। এই বিষয়ে আলোচনার জন্য গতকাল শুক্রবার, দফায় দফায় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অক্সিজেন বহনকারী ট্যাঙ্কারের পরিবহণ নিয়েও বেশ চিন্তিত কেন্দ্র। রাজ্যগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে।
কেন্দ্রের তরফে নির্দেশ, যাতে অক্সিজেন ট্যাঙ্কারগুলিকে অ্যাম্বুলেন্সের তকমা দিয়ে পরিবহণের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি রাজ্যগুলিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা যাতে অক্সিজেন ট্যাঙ্কারের জন্য বিশেষ করিডোর চিহ্নিত করে।
আরও পড়ুন- ভরসা বায়ুসেনা, অক্সিজেনের আকাল মেটাতে জার্মানি, সিঙ্গাপুর থেকে প্লান্ট আনবে বায়ুসেনার বিশেষ বিমান
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জেলা প্রশাসকদের তাদের জেলায় অবস্থিত সমস্ত অক্সিজেন প্ল্যান্টের তালিকা লিখিতভাবে ভাবে পাঠাতে হবে কেন্দ্রকে। সেখানকার ইনস্টলড ক্ষমতা, কোন কোন ধরনের অক্সিজেন উৎপন্ন হয়, তাও জানাতে হবে কেন্দ্রকে।
এদিকে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক গত বৃহস্পতিবারই অক্সিজেন সরবরাহে সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যের মধ্যে অথবা রাজ্যের ভিতরে এক জেলা থেকে অন্য জেলার মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহে আর কোনও বাধা থাকবে না।
কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকায় অনুযায়ী, অক্সিজেন উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির উপর এবং অক্সিজেন সরবরাহকারী সংস্থাগুলির উপর সেই রাজ্যের বা অন্য রাজ্যের কোনও হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহের উপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না।
আরও পড়ুন- অক্সিজেনের ঘাটতি একাধিক রাজ্যে, দিল্লির হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার পাঠানোর উদ্যোগ নিলেন সুস্মিতা
উল্লেখ্য, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এ রাজ্যে সেভাবে অক্সিজেনের আকাল দেখা যায়নি। এই আবহে ২১ এপ্রিল কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে রাজ্যের কাছে চিঠি দিয়ে জানানো হয় যে, এই রাজ্যে উৎপাদিত অক্সিজেন প্ল্যান্টগুলি থেকে অন্য রাজ্যে প্রতিদিন ২০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন পাঠাতে হবে।
সেই চিঠির জবাবে নবান্ন জানিয়েছে, প্রতিদিন ২০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন অন্য রাজ্যে পাঠানো সম্ভব নয়। রাজ্য সরকারের মতে, আগামী দিনে এই রাজ্যে অক্সিজেনের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে প্রত্যেকদিন ৪৫০ মেট্রিকটন অক্সিজেন প্রয়োজন হতে পারে। তাই আপাতত এই রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে অক্সিজেন পাঠানো বন্ধের দাবী জানিয়ে চিঠি পাঠানো হল কেন্দ্রে।





