ঠিক ছিল ভবানীপুরের উপনির্বাচনের পরই তিনি রোম সফরে যাবেন। সেই মতো সফরসূচি চূড়ান্ত করা হয়। নেওয়া হচ্ছিল তাঁর যাওয়ার প্রস্তুতিও। কিন্তু বাধা এল কেন্দ্রের তরফে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোম স্ফ্রের অনুমতি দেওয়া হল না কেন্দ্রের তরফে।
ইটালির একটি বেসরকারি সংগঠন একটি কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে রোমে। আগামী ৬ ও ৭ই অক্টোবর সেই কর্মসূচি হওয়ার কথা। এই কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, পোপ ও ইটালির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। এই কর্মসূচিতেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।
কিন্তু এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য অনুমতি দিল না কেন্দ্র সরকার। শুক্রবার গভীর রাতে বিদেশ মন্ত্রকের এক যুগ্মসচিব চিঠি দিয়ে জানান, যে কর্মসূচির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে বিদেশমন্ত্রক মনে করছেন, “এই অনুষ্ঠান একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অংশগ্রহণের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়”।
কিন্তু কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? তৃণমূলের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ। দলের একাংশ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমেরিকা সফরের ঠিক পরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি রোম সফরে যান, তাহলে তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হবে। বিশেষ করে যখন এই কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন পৃথিবীর অর্থডক্স খ্রিস্টান চার্চের প্রধান।
তৃণমূলের মতে, এই মহান ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে মমতা রাজনৈতিকভাবে দেশের শাসকদলকে আক্রমণ করলে তা কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বিড়ম্বনার হবে। এই কারণেই বিদেশ মন্ত্রক শেষ মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের জন্য অনুমতি দেন নি।
যে সংগঠনটির তরফে মমতা-সহ অন্যান্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তার বয়স পঞ্চাশের উপর (বস্তুতপক্ষে ৫৩ বছর) গোটা পৃথিবীর ৭০টি দেশে তাদের সদস্য রয়েছেন। তাদের সদস্য সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি। সমাজের বিভিন্ন পরিসরে এই সংগঠনটি কাজ করে।





