বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন ভারতে করোনা তৃতীয় পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে অর্থাৎ গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এই আশঙ্কাতে আজ থেকে লকডাউন অধিকাংশ রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আজ বিকাল চারটা থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছে। কিন্তু বার বার সতর্ক করা সত্ত্বেও করোনাভাইরাসের প্রকোপকে তেমন গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না বহু মানুষ। রবিবার বিকালে জনতা কার্ফুর দিনে সবাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে করতালি, ঘন্টা-কাঁসর ও থালা বাজান।
সোমবার সকালেই জনগণের এই অবহেলা নিয়ে টুইটারে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পরই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে রাজ্যগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হল, লকডাউন কার্যকর করতে প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। যে বা যাঁরা সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে বাড়ির বাইরে পা রাখতে নিষেধ করা হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বহু মানুষ এই নির্দেশ মানছেন না বলে বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে। তাতেই এ দিন রাজ্যগুলির কাছে নোটিশ জারি করে কেন্দ্র। তাতে বলা হয়, সরকারি নির্দেশের লঙ্ঘন চোখে পড়লে এ বার থেকে ১৮৮ ধারায় পদক্ষেপ করতে হবে।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। চার জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেখানে। তার পরেও কেউ যদি সরকারি নির্দেশ লঙ্ঘন করে, তা হলে ১৮৮ ধারা অনুযায়ী ২০০ টাকার জরিমানা-সহ ১ মাসের জেল হতে পারে নিয়ম লঙ্ঘনকারীর। তাঁর জন্য অন্য কারও জীবন ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে, সে ক্ষেত্রে জেল হতে পারে ছ’মাস পর্যন্ত। দিতে হতে পারে ১০০০ টাকা জরিমানাও।
পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে সাতজনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ, জনগণকে সচেতন করতে পাড়ায় পাড়ায় চলছে মাইকিং। ভারতে এই ভাইরাস থাবা বাসায় চলতি মাসের শুরু দিকেই। কিন্তু তার প্রভাবে গত কয়েক দিনেই পরিস্থিতি চরমে উঠেছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪১৫ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন। এবার নড়েচড়ে বসেছে সরকার। নির্দেশিকার অন্যথা হলেই জেল ও জরিমানা।





