‘বিচারপতিদের নিরপেক্ষ হওয়া উচিত, আমি ভীষণ বিরক্ত’, ইস্তফা দেওয়া অভিজিৎকেই কী এহেন বার্তা প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের?

বিচারবিভাগ থেকে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা যে নতুন কিছু, তা একেবারেই নয়। অবসরের পর এমন করেই থাকেন অনেক বিচারপতিই। আবার অবসরের পর সরকারও পদ পাইয়ে দেওয়া নিয়েও নানান বিতর্ক হয়েছে। তবে সম্প্রতি বিচারপতি অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিচারবিভাগ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে। আর এবার দেশের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় (D Y Chandrachud) এমন এক মন্তব্য করলেন, যাতে সেই বিতর্ক যেন আরও বেশি জোরালো হল।

কী বলেছেন দেশের প্রধান বিচারপতি (D Y Chandrachud)?  

নাগপুর হাই কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় (D Y Chandrachud)। সেই অনুষ্ঠান থেকে বক্তব্য, প্রত্যেক ভারতবাসীরই রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে। নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতি সকলেরই একটা আনুগত্য থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিচারপতি ও আইনজীবীদেরও সংবিধানের প্রতি কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে।

আচমকাই ঠিক লোকসভা ভোটের আগেই দেশের প্রধান বিচারপতির মুখে এমন মন্তব্য নিয়ে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে। তিনি যে বিচারপতিদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বলতে চেয়েছেন, তা বেশ স্পষ্ট। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সম্প্রতি যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেই বিষয়েই হয়ত পরোক্ষভাবে মন্তব্য করলেন দেশের প্রধান বিচারপতি।

এদিন ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় (D Y Chandrachud) বলেন, “আমাদের মতো একটি প্রাণবন্ত এবং যুক্তিপূর্ণ গণতন্ত্রে অধিকাংশ ব্যক্তির একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ বা প্রবণতা আছে। অ্যারিস্টটল বলেছেন, মানুষ রাজনৈতিক প্রাণী। আইনজীবীরাও এর ব্যতিক্রম নন। কিন্তু বারের সদস্যদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আনুগত্য দলীয় স্বার্থে নয়, বরং আদালত এবং সংবিধানের প্রতি থাকা উচিত”।

প্রধান বিচারপতির কথা অনুযায়ী, কোনও রায় যখন দেওয়া হয়, তখন তা জনগণের সম্পত্তি হয়ে যায়। তা নিয়ে সমালোচনা বা প্রশংসা দুই-ই চলতে পারে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে হোক বা সংবাদমাধ্যমে বা সোশ্যাল মিডিয়ায়, সেই রায় নিয়ে চর্চা হতেই পারে। সেই বিষয়ে বিচারবিভাগকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে রায়ের প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সময় বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে আইনজীবীদের বেশ সতর্ক থাকা দরকার।

ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় (D Y Chandrachud) আরও বলেন, “বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের বিচারাধীন মামলা এবং রায়ের বিষয়ে মন্তব্য করার প্রবণতা দেখে আমি খুব বিরক্ত। আপনারা প্রাথমিকভাবে আদালতের কর্মকর্তা এবং আমাদের আইনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা এবং মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আপনার হাতেই রয়েছে”।

RELATED Articles