New Covid cases in India: আবার বাড়ছে করোনা সংক্রমণ! বাংলায় হানা, চিন্তায় স্বাস্থ্য দফতর!

গত কয়েকদিন ধরেই অনেকেই অনুভব করছেন শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশির প্রকোপ যেন হঠাৎ করে বেড়েছে। অনেকেই বলছেন, সাধারণ জ্বরের চেয়েও উপসর্গ একটু ভিন্ন রকম। কেউ কেউ আবার হালকা গলা খুসখুস, তীব্র ক্লান্তি বা হালকা ডায়রিয়ার মতো সমস্যার কথাও জানাচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে—এই কি শুধুই মৌসুমি ভাইরাস, না কি এর পেছনে রয়েছে আবার সেই পুরনো আতঙ্ক, করোনা?

বাড়ির বয়স্ক সদস্যরা বা যাঁদের আগে থেকেই কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁরা যেন আরও বেশি সতর্ক হচ্ছেন। মাস্ক পরা, হাত স্যানিটাইজ করা—ফের সেই পুরনো অভ্যাসে ফিরছে অনেকেই। হাসপাতালেও কিছুটা চাপ বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, ফের কি আমাদের ফেরা সেই দুঃস্বপ্নের দিনে?

দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা আবারও বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১২ জনে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত কেরালায়—সংখ্যা ২৭৩। এরপর রয়েছে ওড়িশা (১৩২) ও কর্ণাটক (৩৮)। বাংলায় এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত ৪ জন। কর্ণাটকে ৮৪ বছরের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে, মৃত্যুর পর তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। স্বাস্থ্য দফতরের মতে, যদিও তার মৃত্যু হয়েছে মাল্টি অর্গান ফেলের কারণে।

স্বাস্থ্য দফতরের মতে, এই সংক্রমণ মূলত ছড়াচ্ছে NB.1.8.1 ও LF.7 নামক দুটি নতুন প্রজাতির মাধ্যমে। NB.1.8.1 প্রথম ধরা পড়ে চিনে। এখন তা ছড়িয়েছে সিঙ্গাপুর, হংকং ও আমেরিকা সহ ২২টি দেশে। ভারতে NB.1.8.1 পাওয়া গিয়েছে তামিলনাড়ুতে। LF.7 প্রজাতির উপস্থিতি মিলেছে গুজরাটে ৪ জনের শরীরে। এই নতুন প্রজাতিগুলি অনেক বেশি ছোঁয়াচে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যে দিল্লিতে ২৩ জন, মহারাষ্ট্রে ৫৬ জন এবং তামিলনাড়ুতে ৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমস্ত করোনা পজিটিভ কেসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে হবে। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে নতুন প্রজাতি ঠিক কতটা ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি যাঁদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা (SARI) বা ফ্লু-র মতো উপসর্গ রয়েছে, তাঁদের ডেটা আপলোড করতে হবে কেন্দ্রীয় পোর্টালে। হাসপাতালগুলোকে বলা হয়েছে যাতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন, বেড, ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র মজুত রাখা হয়। টেস্টের সংখ্যাও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Breaking : হাওড়ার ব্যস্ত বাজারে আগুন, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা! কীভাবে ঘটল বিপত্তি?

সরকারের তরফে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। আইসিএমআর কড়া নজর রাখছে গোটা পরিস্থিতির উপর। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—যদি উপসর্গ দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে অবিলম্বে টেস্ট করান এবং নিজেকে আইসোলেট করুন। সামান্য অসাবধানতাই ফের তৈরি করতে পারে বড় বিপদ। অতএব, মাস্ক, হাত ধোওয়া, সামাজিক দূরত্ব—এ সব এখনই ফিরিয়ে আনাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ একটাই—ভয় নয়, কিন্তু সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles