আগামী ২২ জানুয়ারি রয়েছে অযোধ্যার রামমন্দিরের উদ্বোধন। এদিন দেশ যে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রামমন্দিরের উদ্বোধন দেখতে অয্যোধ্যায় প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের সমাগম হতে চলেছে। এর ফলে হোটেল নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। কে কত আগে হোটেল বুক করতে পারে!
জানা গিয়েছে, বেশিরভাগ হোটেলের রুমই এখন বুক হয়ে গিয়েছে। আর যেগুলি পড়ে রয়েছে, সেগুলির ভাড়া শুনলে আঁতকে উঠতে হবে। আগামী ২১ থেকে ২৩শে জানুয়ারি পর্যন্ত অযোধ্যার হোটেলে দু’রাত থাকার জন্য লাখ টাকা খরচ করতে হবে। তাও সেটা আবার কোনও বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল নয় কিন্তু, খুব সাধারণ হোটেলের ঘর ভাড়াই এমন হাঁকানো হচ্ছে অয্যোধ্যায়।
কেমন ভাড়া হোটেল রুমের?
রামমন্দিরের উদ্বোধনের জন্য এই মুহূর্তে অযোধ্যার হোটেল মালিকদের যেন পোয়াবারো। সাধারণ সময় যে সমস্ত হোটেল রুমের ভাড়া দিনে দু-তিন হাজারের মধ্যে হয়, সেই হোটেলেরই ঘর পেতে এখন খরচ করতে হচ্ছে ৪০-৪৫ হাজার। প্রায় ২০ গুণ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে হোটেলের। কিন্তু তাও যে হোটেল ফাঁকা মিলছে, তেমনটা নয় কিন্তু। প্রায় সবই বুক। এখন দর্শনার্থীরা অতিথিনিবাস, ধর্মশালার খোঁজ করছেন।
সূত্রের খবর, ২২ জানুয়ারি অর্থাৎ রামমন্দিরের উদ্বোধনের দিনে কয়েকটি হোটেলের রুম ভাড়া ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। গত বছর যে ঘরের ভাড়া ছিল ১ থেকে ২ হাজার টাকা সেই ঘরই এখন মিলছে ৪০ হাজারেরও বেশি টাকায়। লাক্সারি রুম নিতে গেলে তো আরও বেশি খরচ। ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার রুমের ভাড়া এখন ১ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে খবর।
কী বক্তব্য হোটেল মালিকদের?
অযোধ্যার হোটেল মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, অয্যোধ্যায় মোট ১৩৮টি হোটেল রয়েছে। সব মিলিয়ে ঘর রয়েছে চার হাজার মতো। এ ছাড়াও ৭০টি অতিথিনিবাস, ৫০টি ধর্মশালা ও ১০০টি হোম স্টে রয়েছে এই শহরে। দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো নানান বড় শহর থেকে অনেকদিন আগেই রামমন্দিরের উদ্বোধনের জন্য আগাম বুকিং সেরে ফেলা হয়েছে। করোনার সময়কার মন্দা কাটিয়ে এখন লাভের মুখ দেখছেন, এমনটাই জানান হোটেল ব্যবসায়ীরা।
হোটেলে জায়গা মিলছে না। এর কারণে সরযূ নদীর তীরে আবার ‘তাঁবুর শহর’ও গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার। সেখানেও ১০০ থেকে ১৫০টি মতো ঘর রয়েছে।





