তাঁতের শাড়িতে ফুটিয়ে তোলা হল নরেন্দ্র মোদীর মুখ, বাংলার তাঁতশিল্পীর অনন্য বুননে মুগ্ধ সকলে

বাংলার তাঁতশিল্পীর কীর্তি নজর কাড়ল সকলের। তাঁতের শাড়িতে এমন অনন্য কারুকার্য দেখে মুগ্ধ হওয়ারই কথা। কারণ এ তো আর যে সে শাড়ি নয়। এই শাড়িতে ফুটে উঠেছে নানান কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কথা।

৮০ দিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সাত মিটারের এক বিশেষ তাঁতের শাড়ি বুনেছেন বাংলা কাটোয়ার জগদানন্দপুর গ্রামের তাঁতশিল্পী জগদ্দল দালাল। নিজের হাতে বানিয়েছেন এই বিশেষ শাড়ি। তবে তাঁকে সাহায্য করেছেন তাঁর স্ত্রী, বাবা ও মা। এই খাদি-কটনের শাড়ি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উপহার হিসেবে পাঠাতে চান শিল্পী।

কী বিশেষত্ব রয়েছে এই শাড়িতে?

জগদ্দলবাবুর বোনা এই শাড়িতে ফুটে উঠেছে মোদী সরকারের মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্প থেকে শুরু করে স্কিল ইন্ডিয়া, খেলো ইন্ডিয়া, উজ্জ্বলা যোজনা প্রকল্প, ফসল বিমা যোজনা, কোয়ান্টাম গবেষণা, বেটি পড়াও বেটি বাঁচাও- এমন নানান সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় প্রকল্পই নয়, সাত মিটারের এই তাঁতের শাড়ির আঁচলে বোনা হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর ৪২ ইঞ্চির একটি ছবি। আর এই ছবির আশেপাশে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মোদীর জন্ম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক জীবন ও নানান বৃত্তান্তও। রয়েছে, মোদীর বারাণসী লোকসভা কেন্দ্র ও তাঁর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সব ঘটনার বর্ণনাও।  

এর আগে জগদ্দলবাবু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিও এভাবে শাড়ির উপর ফুটিয়ে তুলেছিলেন। সেই থেকেই প্রধানমন্ত্রীর ছবি শাড়িতে বুননের পরিকল্পনা করেন তিনি। জানা গিয়েছে, ১৫০ কাউন্ট খাদি ও ৮৪ কাউন্ট সুতো মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ শাড়ি। তাঁতশিল্পকে বিশ্ব দরবারে নিয়ে যেতে চান কাটোয়ার জগদানন্দপুরের তাঁতশিল্পী জগদ্দল দালাল।

জগবন্ধুবাবু স্ত্রী প্রতিমা দালাল বলেন, “আমার স্বামীর তৈরি শাড়ির উপর এই শিল্পকর্ম আমাদের ভাল লাগে। বাংলার মানুষের যদি এইসব শিল্পকর্ম দেখে তাঁত কাপড় কেনায় আগ্রহ বাড়ে তাহলে আমাদের উপকার হবে”।

কাটোয়ার জগদানন্দপুরকে তাঁতিপাড়া বলা চলে। এই এলাকার প্রায় প্রতি ঘরেই তাঁত রয়েছে। তবে যন্ত্রচালিত তাঁতের ব্যবহার বাড়তে থাকায় হস্তচালিত তাঁতের কাপড়ের চাহিদা এখন প্রায় অবলুপ্তির পথে। সেই কারণে এখানকার অনেকেই বংশগত এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। তবে জগদ্দলবাবু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে সেইসব তাঁতশিল্পীরা যাতে ফের নিজেদের পেশায় ফেরেন।

RELATED Articles